kalerkantho


শরণখোলায় স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে ঠেকালেন ইউএনও

বাগেরহাট প্রতিনিধি   

২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



শরণখোলায় স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে ঠেকালেন ইউএনও

বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন। সুস্বাদু খাবারদাবারের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে। সাজানো প্যান্ডেলে এসে বসে গেছে অতিথিদের অনেকেই। কেবল বর ও বরযাত্রীদের আসার অপেক্ষা। ঘণ্টাখানেক পরেই সম্পন্ন হবে বিয়ে। এমন সময় ওই বিয়েতে বাদ সাধলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। ইউএনওর হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত ওই বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেল এসএসসি পরীক্ষার্থী মনজিলা আক্তার (১৬)। বরপক্ষ রাস্তা থেকেই ফিরে গেল আর মেয়ের বাবা পালালেন বাড়ি থেকে। গতকাল বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের রাজৈর গ্রামে।

জানা গেছে, রাজৈর গ্রামের মনজিলা আক্তারের অসম্মতিতেই তার মা-বাবা মেয়ের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। পাশের নলবুনিয়া গ্রামের কামাল মুন্সির ছেলে রাজমিস্ত্রি সুমন মুন্সির (৩০) সঙ্গে তার বিয়ের আয়োজন করা হয়। স্কুলপড়ুয়া মনজিলা বহুবার আপত্তি তুলেও মা-বাবাকে নিরস্ত করতে পারেনি। পারেনি তার ভাই ইমাম হোসেনও। মা-বাবা বাড়িতে ধুমধামের সঙ্গে মনজিলার বিয়ের আয়োজন করেন। কথা ছিল ওই দিনই মেয়েকে তুলে দেওয়া হবে।

শরণখোলার ইউএনও লিংকন বিশ্বাস জানান, এসএসসি পরীক্ষার্থী মনজিলার ভাইয়ের মৌখিক অভিযোগ পেয়ে তিনি গতকাল দুপুর ১টার দিকে পুলিশ নিয়ে ওই বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, মনজিলার বাল্যবিয়ের সব আয়োজন প্রায় সম্পন্ন। শুধু বর ও বরযাত্রীদের আসার অপেক্ষা। এ অবস্থায় তিনি ওই বিয়ে বন্ধ করে দেন। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে মেয়ের বাবা পালিয়েছেন এবং বরপক্ষ আর ওই বাড়িতে আসেনি। মেয়ের বাবা জামাল ফরাজী ও ছেলের বাবা কামাল মুন্সি পেশায় কৃষক বলে জানা গেছে।

লিংকন বিশ্বাস আরো জানান, মনজিলার সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, তার অসম্মতিতে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।

ইউএনও বলেন, গোপনে অপ্রাপ্তবয়স্ক ওই মেয়ের বিয়ের কাবিন করা হয়েছে কি না তা তদন্ত করার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কাবিন করার প্রমাণ পাওয়া যায় সে ক্ষেত্রে মেয়ের বাবা, বর, বরের বাবা ও কাজির নামে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানাকে বলা হয়েছে।

কিশোর-কিশোরী সুরক্ষা কমিটির সদস্য স্বর্ণকিশোরী লামিয়া আক্তার মনা জানায়, সে বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে মেয়ের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে, তার অমতে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মেয়ের মা পারুল বেগমকেও এ বিয়ে না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু তাঁরা না শোনায় বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানায় লামিয়া।



মন্তব্য