kalerkantho


গ্রিন লাইন ওয়াটারওয়েজের যাত্রা শুরু

সুন্দরবন-কুয়াকাটা রুটে দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসা যাবে

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে সুন্দরবনের কটকা পর্যন্ত নৌপরিবহন সেবা চালু করল গ্রিন লাইন ওয়াটারওয়েজ। গতকাল বুধবার বিকেলে কুয়াকাটায় গ্রিন লাইনের নৌপরিবহন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর ফলে পর্যটকরা দিন থাকতেই সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করে ফিরে আসতে পারবে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ওই রুটে গ্রিন লাইন ওয়াটারওয়েজ-৭ নৌযানের নিয়মিত সেবা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

গ্রিন লাইনের নৌপরিবহন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী মো. শাজাহান খান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মন্ত্রী বলেন, ‘আগে সুন্দরবন দেখার জন্য একমাত্র পথ ছিল খুলনা, যা ছিল সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। কুয়াকাটা থেকে সুন্দরবন (কটকা) গ্রিন লাইন ওয়াটারওয়েজ সেবা চালু হওয়ায় পর্যটকরা সরাসরি সুন্দরবনের দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে পারবে। এতে পর্যটকদের সময় ও অর্থ দুটিই সাশ্রয় হবে। কুয়াকাটা থেকে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা ‘চরবিজয়ে’ পর্যটক যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলেও জানান তিনি।

গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গ্রিন লাইন নৌযান পর্যটকদের নিয়ে সকাল ৭টায় কুয়াকাটা থেকে সুন্দরবনের কটকা পয়েন্টের উদ্দেশে যাত্রা করবে। কটকা পৌঁছতে তিন ঘণ্টা সময় লাগবে। পর্যটকরা সারা দিন সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে সন্ধ্যার আগেই কুয়াকাটার উদ্দেশে যাত্রা করবে।

জানা গেছে, আধুনিক সুযোগ-সুবিধার এ নৌযানে তিন শ্রেণির আসন রয়েছে। এর মধ্যে ১১২টি সোফা, সাধারণ চেয়ার ২০০টি, চারটি সিঙ্গেল কেবিন এবং ১৫টি ডাবল কেবিন রয়েছে। সোফা বা চেয়ারের ভাড়া যাত্রীপ্রতি দুই হাজার টাকা, সিঙ্গেল কেবিন তিন হাজার টাকা এবং ডাবল কেবিনের ভাড়া ছয় হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ভাড়ার মধ্যেই যাত্রীদের সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার এবং বিকেলের নাশতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গ্রিন লাইন ওয়াটারওয়েজের কুয়াকাটা প্রতিনিধি মো. জুয়েল জোমাদ্দার জানান, সুন্দরবনে পর্যটক বা নৌযান প্রবেশ করলে তার জন্য সরকারকে রাজস্ব দিতে হয়। সেসব হিসাব করেই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, গ্রিন লাইন ওয়াটারওয়েজ কর্তৃপক্ষ ঢাকা থেকে তিন দিনের আলাদা একটি প্যাকেজও চালু করছে। ওই প্যাকেজে ঢাকা থেকে বরিশাল পর্যন্ত গ্রিন লাইন ওয়াটারওয়েজে করে যাত্রী পরিবহন করা হবে। এরপর বরিশাল থেকে গ্রিন লাইনের নিজস্ব এসি বাসে করে সেসব যাত্রীকে কুয়াকাটায় নিয়ে আসা হবে। কুয়াকাটায় গিয়ে যাত্রীরা নিজেদের ব্যবস্থাপনায় থাকবে। পরের দিন ওই যাত্রীদের কুয়াকাটা থেকে সুন্দরবন বেড়ানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে ফেরার পর আবার একইভাবে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়া হবে। এ প্যাকেজে সোফা বা চেয়ারের ভাড়া প্রতিজন সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা, সিঙ্গেল কেবিন সাড়ে ছয় হাজার টাকা এবং ডাবল কেবিনের ভাড়া সাড়ে ৯ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছেন উল্লেখ করে নৌপরিবহনমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জানান, কুয়াকাটা ঘিরে নৌপথের উন্নয়ন করা হবে। বিশেষ করে আন্ধারমানিক নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য শিগগিরই খনন কার্যক্রম শুরু করা হবে। গ্রিন লাইন ওয়াটারওয়েজ সেবার সুবিধার্থে কুয়াকাটাসংলগ্ন আলীপুরে পর্যটকদের যাতায়াতের একটি পন্টুন স্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দেন মন্ত্রী।

কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আবদুল বারেক মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মাছুমুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান, কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব তালুকদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো তানভীর রহমান, কলাপাড়া পৌরসভার মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার, গ্রিন লাইন ওয়াটারওয়েজের মালিক মো. আলাউদ্দিন প্রমুখ।



মন্তব্য