kalerkantho


কুয়াশার কারণে ফ্লাইট শিডিউল এলোমেলো

সরোয়ার আলম   

১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ঘন কুয়াশায় দেশের সব বিমানবন্দরে এয়ারলাইনস্গুলোর ফ্লাইট শিডিউলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। শনিবার রাত থেকেই কুয়াশার ঘনত্ব বাড়তে থাকে। গতকাল রবিবার সকালে অবস্থার আরো অবনতি ঘটে। এতে দেশ-বিদেশের অধিকাংশ এয়ারলাইনসেরই ফ্লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণে কমবেশি বিলম্ব হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস্, রিজেন্ট, নভো এয়ার, ইউএস বাংলাসহ আরো কয়েকটি এয়ারলাইনসের ফ্লাইটের শিডিউল পরিবর্তন করতে হয়েছে। ফ্লাইট বিলম্বের কারণে যাত্রীদের বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ সোমবারও ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।

বাংলাদেশ বিমানের পরিচালক আলী আহসান বাবু কালের কণ্ঠ’কে জানান, শনিবার রাত থেকেই ঘন কুয়াশার পূর্বাভাস ছিল। এ কারণে গতকাল সকালে দেশের অধিকাংশ বিমানবন্দর থেকে শিডিউল অনুযায়ী ফ্লাইট ওঠা-নামা করতে পারেনি। এর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে আগামী দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে। তবে ঘন কুয়াশার প্রকোপ অব্যাহত থাকলে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিমান ওঠা-নামায় জটিলতা আরো বাড়বে।

জানা যায়, গতকাল দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ঢাকামুখী ফ্লাইটগুলো গড়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা দেরি হয়েছে। আবার দুপুরের পর সব ফ্লাইট কাছাকাছি সময়ে শাহজালালে অবতরণ করায় যাত্রীদের লাগেজ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে দুপুরের দিকে শাহজালালে ছয়-সাতটি ফ্লাইট অবতরণ করে থাকে। সেখানে গতকাল প্রায় একসঙ্গে ৩০-৩৫টি ফ্লাইট অবতরণ করায় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বাড়তি চাপ পড়ে। প্রয়োজনীয় লোকবল ও যন্ত্রপাতি না থাকায় সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দেয়।

শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন ইকবাল করিম জানান, শনিবার রাতে ও রবিবার সকালে বিমানবন্দরে ভিজিবিলিটি ছিল জিরো। এ রকম অবস্থায় ফ্লাইট ওঠা-নামা করার কোনো উপায় নেই। তবে শীত মৌসুমে কুয়াশার কারণে ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন হওয়াটা স্বাভাবিক ঘটনা। সারা বিশ্বেই এমন সমস্যা তৈরি হয়। সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে।

জানা যায়, শনিবার রাতে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট যখন ট্যাক্সিওয়ে থেকে টেকঅফের জন্য রানওয়ের দিকে ছুটছিল তখন হঠাৎ ২০০ মিটারের ভিজিবিলিটি জিরোতে নেমে আসে। এ অবস্থায় অনেক কষ্টে সেই ফ্লাইট অন্য একটি লাইটার কারের সহায়তায় ফিরিয়ে আনা হয়। ওই ফ্লাইট ঢাকা ছেড়েছে গতকাল সকাল ১০টার পর।

বিমানের জেনারেল ম্যানেজার এয়ারপোর্ট সার্ভিস নুরুল ইসলাম হাওলাদার জানান, কুয়াশার কারণে ঢাকা থেকে বিমানের চারটি ফ্লাইট বিলম্বে ছাড়তে হয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরগামী ফ্লাইট সকাল সোয়া ৮টার পরিবর্তে সোয়া ১০টায় ছেড়ে যায়। আর কলকাতাগামী ফ্লাইট সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের পরিবর্তে ঢাকা ছেড়েছে ১০টা ৩৫ মিনিটে। অপরদিকে ৭টা ৪৫ মিনিটের চট্টগ্রামগামী ফ্লাইট ঢাকা ছেড়েছে ১১টা ৪০ মিনিটে। আর কক্সবাজারের ফ্লাইটটি সকাল সাড়ে ৯টার পরিবর্তে ঢাকা ছেড়েছে ১০টা ৪০ মিনিটে। তিনি বলেন, সকাল ৯টার পর শাহজালাল বিমানবন্দরের কুয়াশা কেটে গেলেও দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরের কুয়াশা কাটতে সকাল সাড়ে ১১টা পেরিয়ে যায়। এ কারণে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, যশোর, সৈয়দপুর, সিলেট বিমানবন্দর থেকেও দুই-তিন ঘণ্টা দেরিতে ফ্লাইট ছেড়েছে।


মন্তব্য