kalerkantho


সুপ্রিম কোর্ট দিবস আজ

বিচার বিভাগের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন

এম বদি-উজ-জামান   

১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বিচার বিভাগের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর এই দিনে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাস্ত করে বিজয় অর্জন করেছিল স্বাধীনতাকামী মুক্তি সেনারা। এই ১৬ ডিসেম্বরই দেশের ইতিহাসের আরো এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৭২ সালের এই দিনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। ওই দিনই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল দেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি। কিন্তু মহান বিজয় দিবসে ছুটির দিন ঘোষিত হওয়ায় ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রথম বসেছিল সুপ্রিম কোর্ট।

জাতীয়ভাবে কিংবা বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত দিনটি পালিত না হওয়ায় জাতির অজান্তেই তা রয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠার ৪৫ বছর পর এবারই প্রথম ‘সুপ্রিম কোর্ট দিবস’ নামে দিনটি পালন করতে যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট। দুর্ভাগ্যক্রমে এ বছরও দিনটি বার্ষিক অবকাশে পড়ায় আগামী ২ জানুয়ারি দিবসটি পালন করা হবে। তবে এরপর থেকে প্রতিবছর ১৮ ডিসেম্বরই পালন করা হবে দিনটি। এ জন্য এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের ছুটি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে ফুলকোর্ট সভায়। ঐতিহাসিক এ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই প্রতিবছর ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বছর দিবসটি জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করার লক্ষ্যে আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মূলত অতিথিদের উপস্থিতির বিষয়ে সম্মতির ওপর নির্ভর করছে কর্মসূচি। তাই কোনো কর্মসুচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. জাকির হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্বরত স্পেশাল অফিসার ব্যারিস্টার সাইফুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, দিবসটি পালনের জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে। সে কমিটি কাজ করছে। দিবসটি পালনের প্রস্তুতির কাজ ভালোভাবেই এগিয়ে চলছে।

প্রতিষ্ঠার ৪৫ বছর পর সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালন করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীরা। তাঁরা বলেছেন, দেরিতে হলেও দিবসটি পালন করা হচ্ছে, এটা একটি মহৎ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম বিচার বিভাগের ইতিহাস জানতে পারবে। তাঁরা বলেন, এত বছর দিবসটি পালন করা হয়নি এটা বড় করে দেখার চেয়ে শুরু করার খবরকে সুদৃষ্টিতে দেখতে হবে। সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনসহ অনেকেই প্রায় একই রকম অভিমত ব্যক্ত করেন।



মন্তব্য