kalerkantho


নূরের গাড়িবহরে হামলা ও চার খুন

চার বছরেও ২৩ আসামি অধরা

নীলফামারী প্রতিনিধি   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



চার বছরেও ২৩ আসামি অধরা

নীলফামারীতে সংস্কতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের গাড়িবহরে হামলা ও চার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী খুনের ঘটনার চার বছর পূর্ণ হলো আজ বৃহস্পতিবার। ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর জেলা সদরের রামগঞ্জ বাজারে ওই নারকীয় ঘটনায় নিহতরা হলেন—টুপামারী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা ফরহাদ হোসেন শাহ ও তাঁর ছোট ভাই মুরাদ হোসেন শাহ এবং আওয়ামী লীগকর্মী লিটন হোসেন লেবু।

হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ওই ঘটনায় সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক বাবুল আকতার বাদী হয়ে মামলা করেন। তাতে সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানীকে প্রধান আসামি করে নামীয় ১৪ জনসহ অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় দেড় হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। এ ছাড়া নিহত খোরশেদ আলম চৌধুরীর ছোট ভাই রাশেদ চৌধুরী বাদী হয়ে নামীয় ৮৬ জনসহ অজ্ঞাতপরিচয় দেড় হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক একই ঘটনায় দায়ের হওয়া দুই মামলা একত্রে তদন্ত করে পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে ছিলেন সেই সময়ের জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল খায়রুল আনাম ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবু হেলাল।

তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১১ মার্চ ২০৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক মোস্তাফিজার রহমান। কিন্তু চার বছর অতিবাহিত হলেও মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। গ্রেপ্তার হওয়া এবং আদালতে আত্মসমর্পণ করা আসামিরা জামিনে বেরিয়ে গেছে। এখনো অধরা রয়ে গেছে চার্জশিটভুক্ত ২৬ আসামি। অবশ্য তাদের মধ্যে তিনজন এরই মধ্যে মারা গেছে।

নীলফামারী জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল ইসলাম প্রামানিক বলেন, ‘মামলাটি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি মামলার চার্জ গঠনের দিন ধার্য রয়েছে। ২০৬ আসামির মধ্যে ২৬ জন পলাতক, একজন কারাগারে এবং বাকিরা আদালত থেকে জামিনে মুক্ত আছে।’

বিচারের আশায় স্বজনরা : ঘটনার চার বছর হলেও হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় নিহতদের স্বজনরা হতাশ। নিহত যুবলীগ নেতা ফরহাদ ও মুরাদের মা মেরিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ওমার (আসামিদের) বিচার হইতে আর কত দিন বাকি? মুই কি বাঁচি থাকি বিচার দেখির পারিম?’ ফরহাদ ও মুরাদের বাবা ফারুক শাহ বলেন, ‘সন্তান হারিয়ে আমাদের দিন কাটছে শোক আর বেদনার মধ্য দিয়ে। পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে আমার ছেলের হত্যাকারীদের অনেকের নাম বাদ পড়েছে। তারা দম্ভ নিয়ে আমাদেরই চোখের সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছে।’ একই অভিযোগ করে নিহত খোরশেদ আলম চৌধুরী ও লিটন হোসেন লেবুর স্বজনরা।

তিন আসামির লাশ উদ্ধার : দায়েরকৃত দুই মামলার তিন আসামির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি গোলাম রব্বানীর লাশ ২০১৪ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা সদরের পলাশবাড়ি ইউনিয়নের নীলফামারী-ডোমার সড়কের গোচামারী ব্রিজের কাছ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ২০ জানুয়ারি সৈয়দপুর বাইপাস সড়কের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় টুপামারী ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম আতিকের লাশ। এরপর শিবিরকর্মী মহিদুল ইসলামের (২৬) লাশ উদ্ধার হয় বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা থেকে।

আওয়ামী লীগের দোয়া মাহফিল : টুপামারী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আবুল কাশেম শাহ জানান, ওই ঘটনা স্মরণে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আজ বিকেলে রামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শোকসভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে বিকেল ৩টার দিকে নিহতদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে। সব কর্মসূচিতে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেবে। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এ ছাড়া সকাল থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে।

আবুল কাশেম শাহ বলেন, ‘ঘাতকরা এখনো সক্রিয়। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই ভয়াবহ ঘটনার চার বছর পূর্তির অনুষ্ঠানের প্রচারণাকালে লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের শিয়ালডাঙ্গা নামক স্থানে একদল মুখোশধারী বাধা দেয়। তারা প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত মাইকের তার ছিঁড়ে ফেলে। এ ঘটনায় পরদিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পরেশ চন্দ্র সরকার একজনের নাম উল্লেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।’ সদর থানার ওসি বাবুল আকতার বলেন, ‘মামলা দায়েরের পর নামীয় আসামি টুপামারী ইউনিয়নের বগুড়াপাড়া গ্রামের আলিমুদ্দীনকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’


মন্তব্য