kalerkantho


নাটোরের ‘নিখোঁজ’ ক্রীড়া কর্মকর্তা আটক!

ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ও নাটোর প্রতিনিধি   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে নাটোর ও পাবনার দায়িত্বে থাকা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান এছাহীকে (২৯) আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল বুধবার তাঁর ভাই ডা. সামসুজ্জোহা ও নাটোরের পুলিশ কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এর আগে তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন এছাহী।

একাধিক সূত্র জানায়, ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির বিষয়টি গত ২০ অক্টোবর ধরা পড়ার পর একে একে ১৪ জনকে আটক করে সিআইডি। তারা সবাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ওই জালিয়াতচক্রের হোতা হিসেবে উঠে এসেছে একজন ক্রীড়া কর্মকর্তার নাম। অলিপ কুমার বিশ্বাস নামের ওই ব্যক্তি বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ছিলেন। ঘটনা জানাজানির পর গাঢাকা দেন তিনি এবং পরে তাকে বরখাস্ত করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ১৪ জনের মধ্যে একজন সংগঠক ও ঢাবির শিক্ষার্থী নাভিদ আনজুম তনয়ের বাড়ি রংপুরে। এই চক্রের সঙ্গে এছাহীর সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি আরো কয়েকজনকে ধরতে অভিযান চলছে।

নাটোর জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী আসিক হোসেন জানান, রাকিবুল হাসান এছাহী পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা গ্রামের এছাম উদ্দিনের ছেলে। গত ১০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এছাহীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে তাঁর শেষ কথা হয়। ‘তিনি সে সময় নাটোরের গুরুদাসপুরে শ্বশুরবাড়ি থেকে অফিসে আসছেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেদিন আর অফিসে আসেননি তিনি। ওই দিন দুপুর থেকে তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি তিনি নাটোরের পুলিশ সুপার ও রাকিবুলের বড় ভাইকে জানান। রাকিবুল পাবনা জেলার অতিরিক্ত দায়িত্বেও রয়েছেন। সেখানেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।’

গুরুদাসপুর থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস বলেন, ‘রাকিবুল হাসান এছাহীকে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজার এলাকার শ্বশুরালয় থেকে আটক করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি পুলিশ জানতে পারে।’ সিআইডি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডির সদস্যরা এছাহীকে শ্বশুর বাড়ি থেকে আটক করে নিয়ে গেছেন। এছাহী নিখোঁজ ছিলেন না। তিন দিন ধরে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তিনি নিখোঁজ রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছিল।’

নাটোরের পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, ‘জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান এছাহীকে না পেয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হয়। পরে জানতে পারি তিনি নিখোঁজ হননি। তাঁকে সিআইডি অফিসের কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় নিয়ে গেছেন।’

এছাহীর ভাই ড. সামসুজ্জোহা মোবাইল ফোনে বলেন, ‘এছাহীর সন্ধান আমরা পেয়েছি। তিনি ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে আছেন।’

এদিকে গতকাল রাতে সিআইডির সংঘটিত অপরাধ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা প্রশ্নপত্র জালিয়াতিতে আটকসংক্রান্ত ব্যাপারে কোনো তথ্য দেননি। তবে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে যাদের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হওয়া যাবে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে। সূত্র আরো বলেন, ‘বিকেএসপির সাবেক কর্মকর্তা অলিপের সঙ্গে এছাহীর সম্পর্ক ছিল। আরো সূত্র আছে। এ কারণে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযান চলছে। কাল (আজ)-পরশুর মধ্যে বিস্তারিত জানা যাবে।’

প্রসঙ্গত, গত ২০ অক্টোবর ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি ধরা পড়ে। এরপর সিআইডি ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।


মন্তব্য