kalerkantho


দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ ১৪ দলের

খালেদার সৌদি সম্পদের তদন্ত দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ক্ষমতাসীন জোট ১৪ দলের বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে। এ পরিস্থিতি আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নেতারা। সে কারণে সরকারকে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। গতকাল সোমবার ধানমণ্ডিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি আরবে খালেদা জিয়ার সম্পদ থাকা নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্তের দাবি জানান ১৪ দলের নেতারা।

রাজধানীর ধানমণ্ডিতে গতকাল দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া। বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, জাসদ (একাংশ) সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া, তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান, ন্যাপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অসীত বরণ রায় প্রমুখ।

১৪ দলের বৈঠকে আওয়ামী লীগ ও শরিক দলগুলোর নেতারা প্রায় সবাই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কথা বলেন। বাজারে সরবরাহের ঘাটতি না থাকলেও মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন তাঁরা।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে জেপির শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ ঠিক থাকা স্বত্ত্বেও কেন মূল্যবৃদ্ধি পেল, তা আমাদেরকে দেখতে হবে। যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে হবে। সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি বাজার মনিটরিংয়ের। হোল্ডিং ট্যাক্স যে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে, তা কাম্য নয়। এ বিষয়টিতেও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘বিএনপি সরকার হাওয়া ভবন সৃষ্টি করে দুর্নীতির মহাকাব্য সৃষ্টি করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অর্থপাচারের খবর বেরিয়েছে। সৌদি আরবে অর্থপাচার নিয়ে তদন্ত করে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। কিভাবে জিয়া পরিবার সৌদি আরবে এই অর্থপাচারে জড়িত, তা সবার সামনে প্রকাশ করতে হবে।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে নাসিম বলেন, ‘আাাগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার চেষ্টা করছে একটি মহল। প্রকারান্তরে এর হোতা খালেদা জিয়া। যারা অসাংবিধানিক পথ অবলম্বন করবে, যেকোনো মূল্যে তাদের প্রতিরোধ করা হবে। আর বিএনপি অবশ্যই শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করবে, এটা সাংবাদিকরা লিখে রাখতে পারেন।’

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে ঐতিহাসিক পরিবর্তন হচ্ছে। এই পরিবর্তনের নানা পর্যায়ে বিএনপি নেত্রী বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন, চক্রান্তের চেষ্টা করেছেন। এমনকি একটি অস্বাভাবিক, অগণতান্ত্রিক পথ ধরে সরকারকে উচ্ছেদের চেষ্টা করেছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে চক্রান্ত করছেন। বেগম জিয়া ও বিএনপি দুর্নীতিকে একটি আর্টে রূপান্তরিত করে এবং সিন্ডিকেটে রূপ দেয়।


মন্তব্য