kalerkantho


প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি

দশ বিমানকর্মীর জামিন নাশকতার প্রমাণ মেলেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ বিমানের দশ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জামিন দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত ঘোষ শুভ আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যেককে জামিন দিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মামলার ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর গতকাল আসামিদের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবীরা। গ্রেপ্তার হওয়ার প্রায় এক বছর পর দশ আসামি জামিন পেলেন। তাঁরা হলেন : বিমানের জুনিয়র টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান, প্রকৌশলী এস এম রোকনুজ্জামান, সামিউল হক, লুত্ফর রহমান, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস, জাকির হোসেন, প্রধান প্রকৌশলী (প্রডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী (পরিদর্শন) এস এস সিদ্দিক, প্রধান প্রকৌশলী (এমসিসি) বিল্লাল হোসেন ও জুনিয়র টেকনিশিয়ান শাহ আলম। এর বাইরে প্রকৌশলী নাজমুল হক আগেই হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ কমিশনার (সিটি) মাহবুবুল আলম ১১ আসামির সবাইকে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে গ্রেপ্তার ১১ আসামির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তবে মামলাটি রাষ্ট্রদ্রোহ ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে রুজু হওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করার এখতিয়ার ঢাকা মহানগর দায়রা ও সিনিয়র বিশেষ ট্রাইব্যুনাল জজের। এ কারণে গতকাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাবীব চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য নথি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠিয়ে দেন।

গত বছরের ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বোয়িং-৭৭৭ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাতে জরুরি অবতরণ করে। ত্রুটি মেরামত শেষে সেখানে চার ঘণ্টা অনির্ধারিত যাত্রাবিরতির পর ওই উড়োজাহাজেই প্রধানমন্ত্রী বুদাপেস্টে পৌঁছেন। পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালক উইং কমান্ডার এস এম আসাদুজ্জামান ঢাকার বিমানবন্দর থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের বাঁ পাশের বি-নাট ঢিলা হয়ে বিমানের অয়েল প্রেসার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। অথচ বি-নাটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঢিলা হওয়ার আশঙ্কা ক্ষীণ। বিমানটি মেরামতের সঙ্গে জড়িতদের হস্তক্ষেপে তা হতে পারে। এটা নাশকতামূলক কাজও হতে পারে।

ঘটনাটি সিভিল এভিয়েশন তদন্ত করে। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও বলা হয়, নাটটি ঢিলে হওয়ার বিষয়টি মানুষের সৃষ্টি। তবে পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর প্রতিবেদনে বলেন, সাক্ষী ও আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিমানের কাগজপত্র পরীক্ষা করে এ ঘটনায় নাশকতা, অন্তর্ঘাতমূলক কাজ ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এ কারণে এসব অভিযোগ থেকে আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। তবে তিন আসামির বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহলোর সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তিন আসামির বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি : প্রতিবেদনে তিন বিমানকর্মীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২৮৭ ধারায় মামলা দায়েরের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন : টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান ও শাহ আলম এবং প্রকৌশলী নাজমুল হক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমান উড্ডয়নের আগে এই তিনজন বিমানটির ত্রুটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন। তাঁরা সতর্কতা ও যত্নের সঙ্গে মেরামতকাজ সমাধা না করে ত্রুটি রেখেই বিমান উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত করেন।

তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরে অনুমতির বিষয়ে গতকাল কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।


মন্তব্য