kalerkantho


দুই হাজার টাকার জন্য খুন হয় সাব্বির

পাঁচজন গ্রেপ্তার হলেও প্রধান আসামি অধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



দুই হাজার টাকার জন্য খুন হয় সাব্বির

মাত্র দুই হাজার টাকা ও পুরনো একটি মোবাইল ফোন সেটের জন্য বখাটেচক্র হত্যা করেছে সাব্বির হোসেনকে (২৪)। রাজধানীর রায়েরবাজার এলাকার এই তরুণ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল কমপক্ষে আটজন। এক মাসের তদন্তে হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়েছে। গ্রেপ্তার পাঁচ আসামির মধ্যে দুজন ইতিমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তবে প্রধান আসামি সোহেল ও চাচা টুটুলকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, হাজারীবাগ থানাধীন রায়েরবাজারের সচিব বাড়ির গলির ৩/৪/৫ নম্বর বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন সাব্বির। তাঁর বাবার নাম ডা. গোলাম সারোয়ার। দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের মধ্যে সাব্বির ছিলেন সবার ছোট। এসএসসি পাস করার পর আর লেখাপড়া না করায় পরিবার সাব্বিরকে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছিল। এ অবস্থায় বখাটে খুনিচক্রের হাতে জীবন দিতে হয় তাঁকে।  

প্রসঙ্গত, গত ৭ নভেম্বর বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে সাব্বিরের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন ৮ নভেম্বর পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে স্বজনরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে গিয়ে সাব্বিরের লাশ শনাক্ত করে। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও পরে জানা যায়, কয়েক ব্যক্তি তাঁকে রায়েরবাজারের একটি নির্মাণাধীন ভবনে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে নিহতের মা শাহিদা বেগম বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখসহ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলো—সুবেল, পান্না, সোহেল, রাজু ওরফে শুভ, মিতা রুবেল, আলম, টুটুল ওরফে চাচা ও সাব্বির বাবু।

হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই পীযূষ কুমার সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে এজাহারনামীয় তিনজন রয়েছে। প্রধান সন্দেহভাজন সুবলসহ দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।’ রায়েরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পীযূষ সরকার আরো বলেন, ‘এলাকাভিত্তিক একটি বখাটে গ্রুপ এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। আরেকটি গ্রুপে ছিল নিহত সাব্বির। মাত্র দুই হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন সেটের জন্য এই খুনের ঘটনা ঘটে। পরিকল্পনা করে সোহেল। প্রধান সহযোগী ছিল চাচা টুটুল। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’ 

নিহতের বড় বোন সালমা জাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাব্বির কিভাবে ওখানে গেল এবং কেন তাকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করা হলো তা আমরা জানি না। তবে শুনেছি শংকর এলাকার ওই গ্রুপটিই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এখনো সব আসামি ধরা পড়েনি। আমরা মামলার প্রধান আসামিসহ বাকিদের গ্রেপ্তার ও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

পুলিশ সূত্র জানায়, হত্যা মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে নিহত সাব্বিরের এক সহযোগীকে আটক করে। গেণ্ডারি সোহাগ নামের ওই তরুণ ও দুই আসামির জবানবন্দিতে খুনের আদ্যোপান্ত জানতে পারে পুলিশ। সোহেলের নেতৃত্বে শংকর এলাকার একটি গ্রুপ এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। অন্যদিকে সাব্বির-সোহাগরা রায়েরবাজার এলাকায় চলাফেরা করত। উভয় পক্ষই বখাটে। মূলত সোহেলের দুই হাজার টাকা ও একটি পুরনো মোবাইল ফোন সেট নিয়ে যায় সাব্বির। এরপর নিজের এলাকায় গিয়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঘুমিয়ে থাকে। ৮ নভেম্বর সকালে সেখানে গিয়ে হামলা চালায় সোহেল ও তার সহযোগীরা। সাব্বিরকে রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তারা জাফরাবাদ এলাকার ফারিয়া ট্রেডার্স নামের দোকানের পাশে ফেলে যায়। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।


মন্তব্য