kalerkantho


জীবিতকে মৃত দেখানো

ট্রাইব্যুনালে ক্ষমা চাইলেন ওসি ও এএসআই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



হত্যা মামলার সাক্ষীকে মৃত দেখিয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করায় ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম ও এএসআই মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ঢাকার একটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। গতকাল সোমবার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ হাজির হয়ে তাঁরা এই ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করেন। তবে ট্রাইব্যুনাল কোনো আদেশ দেননি।

এর আগে গত ২৯ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল ওই দুজনকে ট্রাইব্যুনালে সশরীরে হাজির হয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন। গতকাল ধার্য তারিখে দুই পুলিশ হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। ওই ঘটনার জন্য তাঁরা আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন। এমন নির্লজ্জ ঘটনা আর হতে পারে না বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় অন্ধ সংস্থার মহাসচিব খলিলুর রহমান খুন হন। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী হাসনা পারভীন মিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এতে সাক্ষী ছিলেন ময়মনসিংহ জেলার ২৯/ক, কেসি রায় রোডের বাসিন্দা মো. নুরুজ্জামান শুভ। তিনি নিহত খলিলের ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন।

মামলাটি বিচারের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ স্থানান্তর হওয়ার পর শুভকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানায় এই সমন পাঠানো হয়। ওই থানার এএসআই মোয়াজ্জেম হোসেন গত ১ জুলাই ঠিকানা সঠিক নয় জানিয়ে ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন পাঠান। আবারও সমন পাঠানো হলে ওই এএসআই গত ১৯ সেপ্টেম্বর আরেকটি প্রতিবেদন পাঠিয়ে জানান, সাক্ষী শুভ ২০১৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মারা গেছেন। সঙ্গে মৃত্যু সনদের কপিও দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনে ওসি কামরুল সই করেন।

কিন্তু গত ২৯ নভেম্বর শুভ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেন। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, তাঁর বাড়িতে কখনো কোনো পুলিশ যায়নি। এরপর আদালত মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার ওসি ও এএসআইকে কারণ দর্শাতে বলেন।


মন্তব্য