kalerkantho


আইনমন্ত্রী বললেন

রোহিঙ্গারা ফিরে না গেলে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, ‘মিয়ানমারকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। সরকার মানবাধিকারের কথা চিন্তা করে মিয়ানমার থেকে আগত নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু এটা সাময়িক সমাধান। তাদের অবশ্যই নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিও আহ্বান জানাচ্ছি, ওদেরকে নিজ দেশে ফেরাতে মিয়ানমারের ওপর চাপ বহাল রাখুন।’

বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে গতকাল সোমবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনে সরকার বদ্ধপরিকর। সংবিধানে সবার অধিকার সমান। কিন্তু গরিবরা তা থেকে বঞ্চিত হয়। সরকারের এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এটি দূর করতে সরকার বিনা খরচে দরিদ্রদের সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। প্রতিবছর এ জন্য বাজেট বাড়ছে। শেখ হাসিনার সরকার সব সময় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্ত করতে পারে না। আইনি সীমাবদ্ধতার কারণেই এ রকম। আইনটি সংশোধনে কাজ চলছে। এ ছাড়া গুম হওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে সরকারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদীপ্ত মুখার্জি ও বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড মিশনের উপপ্রধান বেইটি কে এলাসার।

কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘গুম-খুনের ঘটনায় বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। অনেক দেশেই মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এর পেছনে কার শক্তি কাজ করে তা আমরা সবাই জানি। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের হত্যা-ধর্ষণ ছাড়াও নানাভাবে নির্যাতন করে চলেছে। তাই তারা বাধ্য হয়ে এ দেশে পালিয়ে এসেছে। এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ এলে আমাদের এমন কোনো ব্যবস্থা নেই যে নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে পারি। সঠিক অপরাধীকে খুঁজে বের করতে পারে রাষ্ট্র। ভাবমূর্তি ধরে রাখার জন্য হলেও রাষ্ট্রকে নিজ স্বার্থে এই কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।’



মন্তব্য