kalerkantho


যশোরে এক ইউপিতে জরিপ

বেশির ভাগ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কৃষক

ফখরে আলম, যশোর   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



যশোরে ইছালি ইউনিয়নে বেশির ভাগ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কৃষক। আর মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসব ছাত্র অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা বেশির ভাগই কৃষক পরিবারের সন্তান। তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল তৃতীয় শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত। সম্প্রতি ওই ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধদের ওপর জরিপ চালিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

জরিপে দেখা যায়, যশোর সদর উপজেলার ইছালি ইউনিয়ন কমান্ডের অন্তর্ভুক্ত ১৮টি গ্রামের তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন ১০০ জন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁদের মধ্যে কৃষক ছিলেন ৫০ জন। এ ছাড়া ছাত্র ৪৬ জন ও চাকরিজীবী ছিলেন চারজন। এর মধ্যে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তেন ১৪ জন, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তেন ছয়জন, সপ্তম থেকে দশম শ্রেণিতে পড়তেন ৭০ জন। এ ছাড়া উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়নরত সাতজন ও স্নাতকে অধ্যয়নরত তিনজন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যশোর জেলা ইউনিট কমান্ড সূত্রে জানা যায়, যশোরে দুই হাজার ৯০০ জন তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁদের বেশির ভাগই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ইছালি ইউনিয়ন কমান্ডের কমান্ডার মো. মসলেম উদ্দিন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। অর্থাভাবে লেখাপড়ার সুযোগ পাইনি। ক্লাস থ্রি পর্যন্ত পড়ার পর আমার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। কেউ আমাকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে বলেনি। তবে আমি বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনেছিলাম। খোন্তা-কোদাল নিয়ে হানাদারদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আমি তাঁর ভাষণ শুনে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। আমার কমান্ডের ১০০ জনের মধ্যে বেশির ভাগই মুক্তিযুদ্ধের সময় কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন তাঁদের ৯৯ শতাংশই কৃষক পরিবারের সন্তান।’

এ প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যশোর সদর ইউনিট কমান্ডার মোহাম্মদ আলী স্বপন বলেন, ‘কোনো আলালের ঘরের দুলাল মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, জনতা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে। যশোর জেলায় তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বেশির ভাগই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।’


মন্তব্য