kalerkantho


কলেজছাত্র মোমিন হত্যা মামলা

জীবিত সব আসামির সাজা বহাল

দুজনের মৃত্যুদণ্ড, ছয়জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রাজধানীর কাফরুলে কলেজছাত্র মোমিন হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত ৯ আসামির মধ্যে জীবিত আট আসামির সবার সাজা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের করা আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট দুজনের মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন।

বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার ওই রায় ঘোষণা করেন।

ঢাকা কমার্স কলেজের ছাত্র কামরুল ইসলাম মোমিন ছিলেন জাসদ সমর্থক ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর কমিটির সহসভাপতি। বহুল অলোচিত ওই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আটজনের মধ্যে ছয়জনই পলাতক।

হাইকোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হিসেবে শুনানি করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ ও সৈয়দা শবনম মুশতারী। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী ছিলেন এস এম শফিকুল ইসলাম কাজল। অন্য আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শেখ বাহারুল ইসলাম ও এ কে এম তৌহিদুর রহমান।

মতিঝিল থানার সাবেক ওসি এ কে এম রফিকুল ইসলাম ওই মামলার প্রধান আসামি ছিলেন। নিম্ন আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। তিনি কারাবন্দি অবস্থায় ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর মারা যান।

এ কারণে হাইকোর্টে তাঁর বিষয়টি বিচারে আসেনি। যদিও হাইকোর্টে বিচারকালে ওসি রফিকের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও শেখ বাহারুল ইসলাম বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো সাখাওয়াত হোসেন জুয়েল ও তারেক ওরফে জিয়া। দুজনই পলাতক। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান তাজ, জাফর আহমেদ, মনির হাওলাদার, ঠোঁট উঁচা বাবু, আসিফুল হক জনি ও শরিফ উদ্দিন। তাদের মধ্যে তাজ ও বাবু কারাগারে। অন্যরা পলাতক।

২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর খুন হয়েছিলেন কামরুল ইসলাম মোমিন। সেদিনই তাঁর বাবা আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ওসি রফিকসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় ওসি রফিককে আসামির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ২০০৭ সালের ১৩ মে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল সিআইডি। এর বিরুদ্ধে বাদীর দেওয়া নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডিবিকে তদন্তের দায়িত্ব দেন আদালত। ডিবিও তদন্ত শেষে ওসি রফিককে বাদ দিয়ে ২০০৮ সালের ২ মার্চ অভিযোগপত্র দেয়। এরপর বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয়। ২০০৮ সালের ৩০ অক্টোবর দেওয়া তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে ওসি রফিকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। সে বছরের ১১ নভেম্বর অভিযোগপত্র গৃহীত হয়। এরপর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এ ২০০৯ সালের ৫ অক্টোবর অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ স্থানান্তর করা হয়। ওই আদালতে ওসি রফিকের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ গঠন করা হয় ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি। ওই আদালতেই বিচার শেষে ২০১১ সালের ২০ জুলাই রায় দেওয়া হয়। রায়ে ওসি রফিকসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান তাজসহ ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর নিম্ন আদালত থেকে ফাঁসি অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয় হাইকোর্টে। পাশাপাশি কারাগারে থাকা আসামিরা আপিল করে।


মন্তব্য