kalerkantho


নানিয়ারচরে সাবেক ইউপি সদস্যকে গুলি করে হত্যা

পরস্পরকে অভিযোগ করছে দুটি আঞ্চলিক দল

রাঙামাটি প্রতিনিধি   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে অনাধি রঞ্জন চাকমা (৫৫) নামের এক সাবেক ইউপি সদস্যকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সকাল পৌনে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অনাধি উপজেলার চিরঞ্জীব দোজরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মৃত কুমুজ্যা চাকমা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত পাহাড়িদের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) অনাধিকে তাদের সমর্থক বলে দাবি করেছে। তারা অনাধিকে হত্যার ঘটনায় নবগঠিত ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) সংগঠনকে দায়ী করেছে। তবে, ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) উল্টো এ হত্যাকাণ্ডের জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করেছে।

ইউপিডিএফ মুখপাত্র ও সংগঠক বাবলু চাকমা জানান, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে নানিয়ারচর সতের মাইল ও আঠারো মাইলের মধ্যবর্তী চিরঞ্জীব দোজরপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে অনাধিকে ডেকে বের করে গুলি করে হত্যা করে যায় ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) কয়েকজন সশস্ত্র ক্যাডার। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) আহ্বায়ক তপন জ্যোতি চাকমা বর্মা বলেন, ‘অনাধিসহ পাঁচ-সাতজন ইউপিডিএফকর্মী আমাদের দলে যোগ দেওয়ার জন্য কয়েক দিন ধরে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিল। আজ (মঙ্গলবার) সকালে অনাধি আমাদের দলে যোগ দিতে আসার পথেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।’ তিনি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করেছেন।

নানিয়ারচর থানার ওসি মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করেছি। সুরতহাল শেষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেব।’ ওসি জানান, সকালে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে বিহারে যাওয়ার সময় তিন-চারজনের একটি সশস্ত্র দল অনাধিকে ধাওয়া করে এবং গুলি করে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে পুলিশকে। তবে নিহতের পরিবার ঘটনার জন্য কাউকে সরাসরি দায়ী করেনি।

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের পার্বত্যচুক্তির বিরোধিতা করে পাহাড়ে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে জন্ম নেয় প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বে ইউপিডিএফ নামের সংগঠনটি। সম্প্রতি এই সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত ও বের হয়ে যাওয়া কিছু নেতাকর্মী মিলে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নামের আরেকটি সংগঠন তৈরি করেছে।


মন্তব্য