kalerkantho


১৬ বছর ধরে চলছে হত্যা মামলার বিচার!

আশরাফ-উল-আলম   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোডে অটোরিকশায় আগুন ধরিয়ে হত্যা করা হয়েছিল অটোরিকশার চালক মজিবুর রহমানকে। ২০০১ সালের ২ এপ্রিলে সংঘটিত এ নৃশংস ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি এখনো। সাক্ষীর অনুপস্থিতি, আদালত বদলসহ নানা ঘটনায় কেটে গেছে ১৬ বছর। নিহতের পরিবারের পাশাপাশি আসামিপক্ষেরও প্রত্যাশা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি (স্পেশাল পিপি) অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম হিরণ কালের কণ্ঠকে বলেন, আগে মামলাটি অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে ছিল। সম্প্রতি তা পরিবেশ আপিল আদালতে স্থানান্তরিত হয়েছে। সাক্ষীদের প্রতি বারবার সমন ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেওয়ার পরেও সাক্ষী হাজির হচ্ছেন না। ফলে বিচারকাজ বিঘ্নিত হচ্ছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী হাফিজুর রহমান বলেন, মাত্র তিনজন সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৬ বছরে। দীর্ঘদিনেও রাষ্ট্রপক্ষ আর কোনো সাক্ষী হাজির করতে পারেনি। সাক্ষী পাওয়া না গেলে এভাবে মামলা চলতে থাকা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। আবার আসামিও ভোগান্তির শিকার।

বর্তমানে এটি ঢাকার পরিবেশ আপিল আদালতে দায়রা মামলা হিসেবে বিচারাধীন। এজাহারসহ নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০১ সালে ঘটনার দিন বিএনপির আহ্বানে হরতাল চলছিল। সন্ধ্যায় গাজীপুর কাপাসিয়া থানার কড়িহাতা গ্রামের মজিবুর রহমান অটোরিকশা নিয়ে কুড়িল বিশ্বরোড দিয়ে যাচ্ছিলেন। হরতাল সমর্থকরা অটোরিকশা থামিয়ে পেট্রল ঢেলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। দগ্ধ চালক মজিবুরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চার দিন পর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় বাড্ডা থানার এসআই মো. নুরুজ্জামান বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচ-ছয়জন যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বাদী নিজেই মামলাটি তদন্ত করেন। ২০০২ সালের ৩ মার্চ পুলিশ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুজন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। আসামিরা হলো মো. রাশেদ ও মো. সাইদুল ইসলাম। চার্জশিটে ১৩ জনকে সাক্ষী করা হয়।

২০০২ সালে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। পরে প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়। সেখানে দীর্ঘদিন বিচারাধীন থাকার পর ঢাকার পরিবেশ আপিল আদালতে স্থানান্তর করা হয়। বিচারের এ দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় মাত্র তিনজন সাক্ষী আদালতে হাজির হয়েছেন। ২০০৭ সালের ১০ জুলাই এসআই সেলিম আহমেদ, ২০১২ সালের ২৮ নভেম্বর সাক্ষী মো. সিরাজ তালুকদার ও পরে আরেকজন সাক্ষ্য দেন। অন্য ১০ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা যায়নি।

আলোচিত এ মামলার আসামি মো. রাশেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মামলার সাক্ষী হাজির করা হয় না, আমাদের হাজির হতে হয়। কতকাল আর কোর্টে ঘোরাঘুরি করা যায়? দ্রুত বিচার শেষ হোক, যদি দোষী প্রমাণিত হই, শাস্তি হবে।’


মন্তব্য