kalerkantho


বাগেরহাটে গ্রাহকদের টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা কো-অপারেটিভ সংস্থা

বাগেরহাট প্রতিনিধি   

২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বাগেরহাটে ‘দ্য ঢাকা আরবান কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত মুনাফা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গ্রাহকদের কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয়, ‘দ্য ঢাকা আরবান কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডে শাখা ব্যবস্থাপক নীহার রঞ্জন হালদারসহ কয়েকজন কর্মকর্তা বিভিন্ন সময় ওই ব্যাংকে টাকা জমা রাখার জন্য প্রলুব্ধ করতে থাকেন। অন্য যেকোনো ব্যাংক বা সমিতির চেয়ে অতিরিক্ত লভ্যাংশ দেওয়ার আশ্বাস দেন তাঁরা। ফলে কয়েক শ গ্রাহক তাদের জীবনের সব অর্জিত অর্থ ওই ব্যাংকে জমা রাখে। গত এপ্রিল মাসে কয়েকজন গ্রাহক তাদের প্রয়োজনে গচ্ছিত টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নানা টালবাহনা শুরু করে। একপর্যায়ে ওই ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক পালিয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে কয়েক শ গ্রাহক ব্যাংকের কার্যালয়ে গিয়ে অর্থ ফেরত চায়। তবে নানা চেষ্টা করেও তারা অর্থ ফেরত পায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১২ সালে দ্য ঢাকা আরবান কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড শহরের সাধনার মোড়ে রেল রোড এলাকায় ভাড়া বাড়ির তৃতীয় তলায় একটি সাইনবোর্ড দিয়ে তাদের কার্যক্রম শুরু করে।

এর পর থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অতিরিক্ত লভ্যাংশ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই ব্যাংকে ডিপিএস এবং এফডিআরসহ বিভিন্ন নামে অর্থ জমা রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

গ্রাহকদের অভিযোগ, তিন বছরের জন্য এক লাখ টাকা জমা রাখলে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা করে লভ্যাংশ পাওয়া যাবে এমন আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তারা ওই ব্যাংকে টাকা জমা রাখে। কেউ কেউ কয়েক মাস ওই হারে লভ্যাংশ তুলেছে। কিন্তু প্রয়োজনে মূল টাকা চাইতে গেলে প্রতারণার এই জাল ধরা পড়ে।

ওই ব্যাংকের বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক মো. স্বাধীন শেখ জানান, দ্য ঢাকা আরবান কো-অপারেটিভ ব্যাংক কোনো তফসিলভুক্ত ব্যাংক নয়। সমবায় সমিতি কর্তৃক রেজিস্ট্রেশনের ওপর ভিত্তি করে এ ব্যাংকে ক্রেডিট প্রগ্রাম চলে। শহরের দশানী এলাকায় ব্যাংকের কার্যক্রম চলছে বলে তিনি জানান।

শাখা ব্যবস্থাপক মো. স্বাধীন শেখ আরো জানান, ব্যাংকের আগের শাখা ব্যবস্থাপক নীহার রঞ্জন হালদার গত মার্চ মাসে হঠাৎ করে কাউকে কিছু না বলে চলে গেছেন। পরে গ্রাহকদের দাবির মুখে তাঁকে ওই ব্যাংকে শাখা ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় ওই ব্যাংকের দুই কোটি ৫৩ লাখ টাকার হিসাব পাননি।

শাখা ব্যবস্থাপক মো. স্বাধীন শেখের দেওয়া তথ্য মতে, কয়েক শ গ্রাহকের এখানে জমা রাখা এক কোটি ৬২ লাখ টাকা পাবে। আর বিভিন্ন গ্রাহকের কাছে এই ব্যাংকের সুদে-আসলে এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা পাওনা আছে। তিনি চেষ্টা করছেন যে টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে, তা উত্তোলনের মাধ্যমে ওই গ্রাহকদের পাওনা বুঝে দেওয়ার।

এ বিষয়ে ওই ব্যাংকের আগের শাখা ব্যবস্থাপক নীহার রঞ্জন হালদারের বক্তব্য নেওয়ার জন্য মোবাইল ফোনে চেষ্টা করা হলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁকেও পাওয়া যায়নি।


মন্তব্য