kalerkantho


শেষ হলো আন্তর্জাতিক সম্মেলন

সমুদ্র অর্থনীতি কাজে লাগাতে গড়তে হবে দক্ষ মানবসম্পদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ভারত ও মিয়ানমার থেকে পাওয়া এক লাখ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত সমুদ্রসীমা নিয়ে যেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কাজ করছে, তাদের কাজ ও পরিকল্পনা সমন্বয় করার ওপর তাগিদ দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহিরয়ার আলম। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের শেষ দিনে সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘সমুদ্র অর্থনীতিকে কাজে লাগাতে যে ধরনের মানবসম্পদের প্রয়োজন, সেখানে আমাদের যথেষ্ট অভাব রয়েছে।

সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা এদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেছেন। ’ এ ছাড়া সমুদ্রে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সমাপনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমুদ্রবিষয়ক শাখার সচিব খোরশেদ আলম, আইএসএ এর মহাপরিচালক মিশেল লজসহ অন্যরা।

এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, ভারত, শ্রীলঙ্কা, বেলজিয়াম, ডেনমার্কসহ বিভিন্ন দেশের সমুদ্রবিজ্ঞানবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও সংলাপে অংশ নেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের একার পক্ষে সমুদ্র অর্থনীতিকে ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। এগিয়ে আসতে হবে ব্যক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের ও উন্নয়ন সহযোগীদের। উন্নত বিশ্বের কারিগরি সহযোগিতাও প্রয়োজন। অবশ্য এরই মধ্যে অনেক দেশ ও সংস্থা সহযোগিতা করার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে।

সমুদ্রবিষয়ক শাখার সচিব খোরশেদ আলম বলেন, ‘সমুদ্রে ব্যাপক মাছ আছে। খনিজ সম্পদ আছে কি না আমরা জানি না। সমুদ্র অর্থনীতিকে কাজে লাগাতে আমরা বিভিন্ন দেশের গবেষকদের ডেকেছি। তাঁরা তাঁদের মতামত জানিয়েছেন। আমরা ভবিষ্যতে পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় এসব মতামতকে অগ্রাধিকার দেব। ’

সমাপনী অনুষ্ঠানে আসা এক অংশগ্রহণকারী জানতে চান, বিশাল এই কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে আলাদা কোনো মন্ত্রণালয় করার পরিকল্পনা আছে কি না। জবাবে খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমরা মাত্র কাজটা শুরু করেছি। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে একটি আলাদা শাখা খুলেছে। দেখি তারা পারে কি না। তাদের সে সুযোগ দেওয়া উচিত। তারপর না হয় ভাবা হবে। ’

সংলাপে অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজের সহকারী অধ্যাপক মোস্তফা মনোয়ার বলেন, সমুদ্র অর্থনীতিকে কাজে লাগাতে হলে দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এ জন্য তিন থেকে চার বছর সময় লাগবে। যে পরিকল্পনা শুরুর কাজ এখনো হয়নি। ’ সমুদ্র অর্থনীতির জন্য আলাদা একটি মন্ত্রণালয় হওয়াও জরুরি।


মন্তব্য