kalerkantho


প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা

প্রশ্নপত্রের ভুলে অস্তিত্বহীন শিক্ষা কর্মকর্তা বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে ভুলের জন্য গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মো. আব্দুল মান্নানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে এই নামে কোনো সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাই নেই। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়েও ওই নামে সাদুল্যাপুরে কোনো কর্মকর্তা পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবের আদেশে বলা হয়, ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ১৯৮৫’ অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে ২৩ নভেম্বর থেকে আব্দুল মান্নানকে বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি প্রচলিত বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতা পাবেন। ’

গত ২১ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ পরীক্ষার ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে অর্ধশতাধিক ভুল ছিল বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এসব ভুল ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ভুল ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘পিইসির প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে থাকে ময়মনসিংহে অবস্থিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। নেপ থেকে জানানো হয়েছে, ওই সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ভুলে ভরা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের দায়িত্বে ছিলেন।

সেই অনুযায়ী বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়েছে। ’

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রশ্নপত্রে ভুলের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। তবে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের দায়িত্ব নেপের। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। ’

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, মো. আব্দুল মান্নান নামে কোনো এটিইও আছেন কি না তা জানতে চাইলে সাদুল্যাপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) নূর মোহাম্মদ গতকাল রাতে মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁর উপজেলায় এ নামে কোনো এটিইও নেই। এ ছাড়া বিগত কয়েক বছরেও এ নামে কোনো এটিইও ছিলেন না। তবে নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘উপজেলাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষার আরেকটি শাখা হচ্ছে ‘উপজেলা রিসোর্স সেন্টার’। আমার জানা মতে, ‘সেখানে আব্দুল মান্নান নামে একজন সহকারী ইন্সপেক্টর ছিলেন বছরখানেক আগে।


মন্তব্য