kalerkantho


সড়কমন্ত্রীর সহায়তায় বাঁচল মেধাবী সিরাজুলের স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সড়কমন্ত্রীর সহায়তায় বাঁচল মেধাবী সিরাজুলের স্বপ্ন

দরিদ্র পরিবারের সন্তান মেধাবী শিক্ষার্থী সিরাজুল। তুমুল প্রতিযোগিতায় ঢাকা, জগন্নাথ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

কিন্তু পড়শোনার খরচ জোগাবে কে? এত দিন চায়ের দোকানে কাজ করে, বিনা মূল্যে বই পেয়ে, অন্যের কাছে বই ধার করে পড়াশোনা চালিয়েছেন সিরাজুল। ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে ভিটার গাছ বিক্রি করেছেন মা। এত দিন কোনো মতে চলেছে। কিন্তু এখন তো উচ্চশিক্ষা?

এই অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার একটি জাতীয় দৈনিক মেধাবী শিক্ষার্থী সিরাজুলকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সংবাদটি চোখে পড়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের। মন্ত্রী মহোদয় তত্ক্ষণাৎ সিরাজুলের পাশে দাঁড়াতে ইচ্ছা পোষণ করেন। সিরাজুলের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

গতকাল সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে সিরাজুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁরা জানতে পারেন সিরাজুল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী।

এরপর সড়কমন্ত্রী সিরাজুলের ভর্তিসহ অন্যান্য খরচের টাকা পাঠিয়ে দেন। একই সঙ্গে মন্ত্রী ঘোষণা দেন সিরাজুলের পড়ালেখার খরচ বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে বহন করা হবে।

ব্যস, সিরাজুলের চোখের সামনে ধেয়ে আসা অন্ধকার দূর হয়ে যায়। উচ্চশিক্ষা নিয়ে বড় হওয়ার লালিত স্বপ্ন ডানা মেলে। খবর শুনে মা রেজিয়া বেগম ও মেজ ভাই রেজাউল করিম রেজা খুশি হয়ে মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গতকাল দুপুরে কালের কণ্ঠ থেকে সিরাজুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গতকাল সকাল প্রায় সাড়ে ১১টায় সড়কমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর কাছে অর্থ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সিরাজুল আরো বলেন, ‘মন্ত্রীর কাছে আমি ও আমার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ। একসময় বই কেনার টাকা ছিল না বলে পড়তে পারিনি। ২০১০ সালে বিনা মূল্যে বই পেয়েছিলাম বলে পড়তে পেরেছি। আমার মতো হাজার হাজার সিরাজুল এভাবে আছে যারা ঢাকায় যাওয়ার টিকিটের টাকার অভাবে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। যাদের খাবার টাকা নেই। যাদের মা-বাবা শীতে গরম কাপড় কিনতে পারে না। তাদের জন্য এভাবে মানুষের এগিয়ে আসা উচিত। ’

সিরাজুলের বাড়ি লালমনিরহাট উপজেলার আদিতমারী উপজেলার তালুক হরিদাস গ্রামে। তাঁর বাবা দবিয়ার হোসেন ২০১২ সালের ১৭ জুলাই মারা যান স্ট্রোক করে।

সিরাজুল বলেন, ‘বাবার ছিল চায়ের দোকান। বাবা চলে যাওয়ার পর আমি, মেজ ভাই পড়াশোনার ফাঁকে অন্যের চায়ের দোকানে কাজ করতাম। মা বাড়ি বাড়ি কাজ করতেন। মেজ ভাই রেজাউল করিম বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে সম্মান শেষ বর্ষে পড়ছেন। ’

সিরাজুল বলেন, ‘আমাদের পড়াশোনার জন্য আমার মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেছেন। আমরা দুই ভাই অন্যের বাড়িতে শ্রমিকের কাজ করেছি। আমি লেখাপড়া শেষ করে মায়ের দুঃখ ঘোচাতে চাই। ’


মন্তব্য