kalerkantho


স্যালাইন খুলে নিয়ে নবজাতকসহ প্রসূতিকে বের করে দিলেন আয়া

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

২১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



টাকা না দেওয়ায় হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে এক নবজাতকের শরীর থেকে স্যালাইন খুলে নিয়ে তার স্বজনদের মারধর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার ভোরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লুকড়া ইউনিয়নের বাটপাড়া গ্রামের শিরীষ সূত্রধরের স্ত্রী দীপ্তি সূত্রধর গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি হন। রাত ৩টায় তাঁর স্বাভাবিক প্রসব হয়। এ সময় হাসপাতালের আয়া সালমা এসে সম্মানী হিসেবে এক হাজার ২০০ টাকা দাবি করেন। দীপ্তি তাঁকে বলেন, ‘স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে এবং সব ওষুধ আমরা এনে দিয়েছি। তাহলে টাকা কেন দেব?’ বিতণ্ডার একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে সালাম রোগীর স্বজনদের মারধর শুরু করে। এ সময় নবজাতকের শরীরে স্যালাইন লাগানো ছিল। সালমা সেটি খুলে ফেলেন এবং ৪টার দিকে তাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেন।

দীপ্তি সূত্রধরের শ্বশুর পরেশ সূত্রধর হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ার সময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহাগকে মৌখিকভাবে অভিযোগ দিয়ে যান। পরেশ সূত্রধর জানান, আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় তাঁরা সরকারি হাসপাতালে এসেছিলেন।

কিন্তু সিস্টার সালমা তাঁদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান।  

কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহাগ বলেন, ‘ঘটনাটি অনৈতিক, অমানবিক। যাঁদের বড় হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে যাওয়ার সামর্থ্য নেই তাঁরাই আসেন এ হাসপাতালে। অভিযোগ পেয়েছি। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে জানিয়েছি। তিনি বলেছেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

এ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরাও আয়া সালমার ব্যাপারে অভিযোগ করেছে। নবীগঞ্জ উপজেলার ইমামবাড়ী গ্রামের মনোয়ারা বেগমেরও স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। পরে সালমা তাঁর কাছেও এক হাজার ২০০ টাকা দাবি করেন। মনোয়ারা ৫০০ টাকা দিলে তিনি ওই টাকা ছুড়ে ফেলে দেন। পরে ৬০০ টাকায় রফা হয়। জানা গেল, লাখাই উপজেলার করাব গ্রামের আকলিমা নামে এক গৃহবধূর কাছেও দেড় হাজার টাকা দাবি করেন সালমা। আকলিমা ৩০০ টাকা দিয়ে কোনো রকম রেহাই পান। বানিয়াচং উপজেলার দক্ষিণ সাঙ্গর গ্রামের উমরিত খাতুন প্রসবের পর ৯০০ টাকা দিয়ে রেহাই পান। তাঁর কাছে সালমা চেয়েছিলেন এক হাজার ৮০০ টাকা।

অভিযোগের ব্যাপারে সালমা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও হাসপাতালে তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। তাঁর মোবাইল নম্বরও কেউ দিতে পারেনি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাঁর সহকর্মীরা জানান, সালমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের অভাব নেই।  

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রথীন্দ্র চন্দ দেব বলেন, ‘আমি বিষয়টি অবগত নই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য