kalerkantho


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

ভর্তীচ্ছুদের কাছ থেকে টাকা নেবে মেস মালিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ও বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা   

২১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এবারও ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেবেন মেস মালিকরা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও মেস মালিকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার মাথাপিছু ১০০ টাকা করে নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মতে, ভর্তীচ্ছুদের অতিথি হিসেবে না দেখে উল্টো তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে। এ ছাড়া দেশের কোথাও এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ করেছে ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীরা।

ভর্তীচ্ছুদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ক্ষেত্রে গত বছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে এ বছর প্রশাসন সমর্থন দিয়েছে। প্রশাসনের যুক্তি, মেস মালিকদের কথা চিন্তা করে তাঁদের টাকা নিতে বলা হয়েছে। তবে সেটা খুবই সীমিত।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মেস মালিকরা। সেখানে মালিকপক্ষ দাবি করেন, ভর্তি পরীক্ষার সময় অতিরিক্ত শিক্ষার্থী থাকায় বিদ্যুৎ ও পানি খরচ বেশি হয়। তাঁদের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০০ টাকা নেওয়ার অনুমতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

পরে তা কমিয়ে ১০০ টাকা করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন কাজলা, মেহেরচণ্ডী, বিনোদপুর, মির্জাপুর ও তালাইমারী এলাকার মেস মালিকরা সিট ভাড়া, বিদ্যুিবল ও পানি বিলের কারণ দেখিয়ে প্রত্যেক ভর্তীচ্ছুর কাছ থেকে প্রতি রাতের জন্য ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। ভর্তীচ্ছুদের সঙ্গে অভিভাবক বা অন্য কেউ থাকলে তাদের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছে।

মেসের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভর্তীচ্ছুদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলেও তাদের জন্য আলাদা সিটের ব্যবস্থা করা হয় না। সিট ভাগাভাগি করে ভর্তীচ্ছুদের সঙ্গে তাদের থাকতে হয়।

বিনোদপুরের ‘ক্ষণিকা’ ছাত্রাবাসের শিপন নামের এক শিক্ষার্থী জানান, ‘ভর্তি পরীক্ষার কয়েক দিন মেস মালিকরা ভর্তীচ্ছুদের অতিথি হিসেবে রাখতে পারেন। কিন্তু তা না করে তাঁরা অনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে। ’

ধরমপুরের ‘গোল্ডেন টাচ’ ছাত্রাবাসের সোহাগ জানান, ‘ভর্তীচ্ছুদের অসুবিধার কথা না ভেবে মেস মালিকরা তাঁদের ব্যবসাকে বড় করে দেখেন। মেস মালিকদের এ মুনাফালোভে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সায় না দিয়ে উচিত ছিল এটা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। ’


মন্তব্য