kalerkantho


রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের অসিলা বিএসএফের

কাঁটাতারে আটকা শ্যামাপূজার মিলনমেলা

আহসান হাবিব, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ   

২১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



কাঁটাতারে আটকা শ্যামাপূজার মিলনমেলা

সোনামসজিদ বালিয়াদীঘি ও ভারতের মোহদিপুর গরমোহলি সীমান্তে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে না পেরে ফিরে যায় ১০ হাজার মানুষ। ছবি : কালের কণ্ঠ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ বালিয়াদীঘি ও ভারতের মোহদিপুর গরমোহলি সীমান্তে শ্যামাপূজা উপলক্ষে প্রতিবছর বসে স্বজনদের মিলনমেলা। এই দিন দুই দেশে থাকা প্রিয়জন ও স্বজনদের কুশল ও উপহার বিনিময় হয়ে আসছে।

তবে এবার তা হয়নি। ১০ সহস্রাধিক মানুষ উপস্থিত হলেও ভারতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের অসিলা ও আতঙ্কে বিএসএফের কারণে সাঙ্গ হয় মিলনমেলা। তবে কাঁটাতারের বেড়া এপার-ওপারের মানুষের বেগ কমাতে পারলেও কমাতে পারেনি আবেগ।

গতকাল শুক্রবার শ্যামাপূজার দিন সকাল থেকে কাঁটাতারের দুই পারে ১০ সহস্রাধকি হিন্দু-মুসলিম জড়ো হতে থাকে। তবে বিএসএফের কড়াকড়ির কারণে দুই পারের মানুষ দেখা করতে বা কথা বলতে পারেনি। সকাল থেকে অপেক্ষার প্রহর গুনে বিকেল ৪টার দিকে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ফেরে নিজ নিজ বাড়িতে।

চককীর্তি এলাকা থেকে আসা লতা রানী বলেন, ‘ওপারে মেয়ে আছে। প্রতিবছর তার সাথে কাঁটাতারের বেড়ার এপার-ওপার থেকে শুভেচ্ছা ও বেড়ার ওপর দিয়ে চালিয়ে দেওয়া উপহার বিনিময় হতো। এবারও সে আশায় এসেছিলাম; কিন্তু তারের বেড়ার কাছে যেতে দিতে বিজিবি কিছুটা নমনীয় থাকলেও বিএসএফের আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি।

তাই সকাল থেকে ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফিরে যাচ্ছি। ’ এ সময় একই কথা জানালেন আলিডাঙ্গা গ্রামের রেফুন বেগম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিয়তি রানীসহ অনেকে।

সোনামসজিদ বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার বেলায়েত জানান, বিএসএফ তারের বেড়ার গেট খুলে নো ম্যানস ল্যান্ড এবং সীমান্ত পিলার বরাবর অবস্থান করতে থাকে। তারা বিজিবিকে জানিয়ে দেয়, কোনো বাংলাদেশি যেন কাঁটাতারের বেড়ার আশপাশে না যায়। এর আগে বিএসএফ এমনভাবে বিধি-নিষেধ আরোপ ও পিলারের কাছে অবস্থান নেয়নি বলে জানায় স্থানীয় এলাকাবাসীও। নাম না প্রকাশের শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী জানায়, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আতঙ্কে বিএসএফ এবার চরম কড়াকড়ি করল, যা আগে কখনো করেনি।

তবে কাঁটাতারের বেড়া এপার-ওপারের মানুষের বেগ কমাতে পারলেও কমাতে পারেনি আবেগ। কয়েক বছর ধরে দীপাবলিতে ক্রমান্বয়ে প্রায় চার ঘণ্টায় দুই পারের ১০ সহস্রাধিক হিন্দু-মুসলিম কোলাহলের মধ্যেই সেরে ফেলত কথাবার্তা ও কুশল বিনিময়।

জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার প্রায় ২৮ কিলোমিটার ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের আগে দুই পারের মানুষের এপার-ওপার যাতায়াত ছিল অনেকটাই নির্বিঘ্ন। দুই পারে বাড়ে স্বজনদের সংখ্যা। এপার-ওপারের পাত্র-পাত্রী নির্ধারণ করে হয় বিয়েশাদিও। বেড়া নির্মাণ হলেও দুই পারের মানুষের সেতুবন্ধ বন্ধ হয়ে যায়নি আজও। তাই দুই পারের লোকজনের পরস্পরের স্বজনদের এক পলক দেখা ও কুশল বিনিময় করার একমাত্র মোক্ষম সময়টি ছিল শ্যামাপূজা বা দীপাবলির দিন। এদিন এই সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের টহল থাকলেও মানবিক কারণেই তারা থাকত অনেকটা না দেখতে পাওয়ার ছলে। কিন্তু এসএফের কড়াকড়ির কারণে এবার আর তা হয়নি।

এপার-ওপারে কেউ মারা গেলেও জটিলতার কারণে এবং সহজ না হওয়ায় দেখতে যাওয়া হয় না অনেক পরিবারের। এপারের যেমন অনেকের আত্মীয়-স্বজন ওপারে আছে, তেমনি ওপারের অনেকেরই আত্মীয়-স্বজন এপারে আছে। শ্যামাপূজার দিন ছাড়া কাঁটাতারের বেড়ার আশপাশে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় কয়েক হাজার মানুষ সকাল থেকে অপেক্ষা করতে থাকে প্রিয়জন ও স্বজনদের সঙ্গে কাঁটাতারের এপার-ওপার থেকে দেখা করার জন্য।


মন্তব্য