kalerkantho


মিয়াদ হত্যাকাণ্ড

১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত

সিলেট অফিস   

২০ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সিলেটে ছাত্রলীগকর্মী মিয়াদ খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এতে আসামি করা হয়েছে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরীসহ ১০ জনকে।

অন্যদিকে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

সূত্র জানায়, নিহত মিয়াদের বাবা আবুল মিয়া বুধবার রাতে শাহপরাণ থানায় মামলা করেন। এজাহারে ১০ আসামির নাম উল্লেখ রয়েছে। তাঁরা হলেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের খান, সমাজসেবা সম্পাদক জাকারিয়া মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফাহিম শাহ্, উপদপ্তর সম্পাদক রাফিউল করিম মাসুম, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সরোয়ার হোসেন চৌধুরী, কর্মী তোফায়েল আহমদ, রুহেল, শওকত হাসান মানিক ও ফকরুল আহমদ। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো চার-পাঁচজন জড়িত বলে এজাহারে উল্লেখ আছে। আসামিদের মধ্যে পুলিশ ফকরুল আহমদকে ঘটনার দিন ও তাঁর ভাই তোফায়েল আহমদকে পরদিন ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।

শাহপরাণ থানার ওসি আক্তার হোসেন বলেন, মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এদিকে বুধবার রাতে ছাত্রলীগের সিলেট জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে সিলেট জেলা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে পদ প্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সোমবার বিকেলে সিলেট নগরের টিলাগড় এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন ওমর আহমদ মিয়াদ (২২)। তিনি লিডিং ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ খুনের ঘটনার পর ছাত্রলীগ নেতারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা রকম মন্তব্য করছেন। বুধবার রাত ৯টা ৫১ মিনিটে নিজের ফেসবুকে টাইমলাইনে মন্তব্য করেন জেলা ছাত্রলীগ সেক্রেটারি এম রায়হান চৌধুরী। তিনি লেখেন, ‘সম্পূর্ণ হিংসার বশবর্তী হয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ষড়যন্ত্রমূলক, সাজানো, মিথ্যা হত্যা মামলায় যাঁরা আজ আমাকে ফাঁসিয়েছেন, মনে রাখবেন ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করেনি, করবেও না। সত্যের মৃত্যু নেই। ’ টিলাগড় গ্রুপের নেতা ও সাবেক জেলা সভাপতি হিরন মাহমুদ নিপু লেখেন—‘সোমবারে যে খুন হয়েছিল সে জাকারিয়া মাহমুদ মাসুম নয়, সে ওমর মিয়াদ। সব কিছু নিয়ে খেলার চেষ্টা করবেন না, হুমকি-ধমকি দিয়ে কোনো লাভ নেই। প্রত্যেকটি আসামি গ্রেপ্তার হবেই। ’ এ ছাড়া নানা প্রতিক্রিয়া মিলছে ছাত্রলীগ নেতাদের মন্তব্য ও আলাপচারিতায়।


মন্তব্য