kalerkantho


বরিশাল বিএনপিতে গ্রেপ্তার আতঙ্ক, কাউন্সিলররাও আত্মগোপনে

বরিশাল অফিস   

১৮ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



গ্রেপ্তার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বরিশাল বিএনপির অধিকাংশ নেতার মধ্যে। গত শনিবারের বিক্ষোভ মিছিলকেন্দ্রিক সংঘর্ষের ঘটনার মামলায় এই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এ কারণে দলীয় কার্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলেও দেখা যাচ্ছে না বিএনপি নেতাদের। এমনকি বিএনপিপন্থী ২৫ কাউন্সিলরের বেশির ভাগ গতকাল সোমবার কর্মস্থলে আসেননি।

বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানিয়েছেন, পুলিশ অকারণে বাসা-বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলও বাদ দেয়নি। তাই আন্দোলন সচল রাখতে বাধ্য হয়ে আত্মগোপনে গেছেন তাঁরা। তবে পুলিশের দাবি, কেবল যাঁরা পুলিশের ওপর হামলা এবং বিশৃঙ্খলা করেছে তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে জেলা ও মহানগর বিএনপি। সমাবেশের অনুমতি থাকলেও মিছিলের অনুমতি ছিল না—এমন দাবিতে মিছিলে লাঠিপেটা করে পুলিশ। ওই দিন রাতেই পুলিশ ২৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজানা আরো ৭০-৮০ জন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা করে।

মামলায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, জনগণের মালামালের ক্ষতি, সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ওই মামলায় এর মধ্যে আট আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

গতকাল বরিশাল সিটি করপোরেশনে গিয়ে দেখা গেছে, বিএনপিপন্থী ২৫ কাউন্সিলরের বেশির ভাগ কর্মস্থলে নেই। মামলার প্রধান আসামি হিসেবে দলীয় কাউন্সিলর মীর জাহিদুল কবির গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিএনপিপন্থী অন্য কাউন্সিলরদের মধ্যেও গ্রেপ্তার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তা ছাড়া গতকাল ব্যক্তিগত অফিসগুলোতেও দেখা মেলেনি বিএনপিপন্থী কাউন্সিলরদের।

জানতে চাইলে কাউন্সিলর ও বরিশাল মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার কালের কণ্ঠ’কে বলেন, পুলিশ হয়রানির জন্য বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এরপর আবার গ্রেপ্তারের জন্য বাসা-বাড়ি-কর্মস্থলেও হানা দিচ্ছে। তাই অনেকে কর্মস্থলে যায়নি। হয়রানি থেকে বাঁচতে কৌশল অবলম্বন করছে তারা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল মহানগর বিএনপি নেতারাই নন, জেলা বিএনপি নেতারাও গ্রেপ্তার আতঙ্কে আত্মগোপনে রয়েছেন। এমনকি তৃণমূলের অনেক নেতাও গাঢাকা দিয়েছেন।

বিএনপি নেতারা বলছেন, কোতোয়ালি থানা পুলিশ মামলা করলেও জেলা ও মহানগরের প্রতি থানায়ই বেশ কিছু বিএনপি নেতার নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে। সে অনুসারে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ ওই নেতাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ মো. আওলাদ হোসেন বলেন, ‘যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে আমরা কেবল তাদের আটকে অভিযান চালাচ্ছি। নির্দোষ কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না। ’ তিনি বলেন, মিছিলের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করা অপরাধ। সেই অপরাধেই পুলিশ মামলা করেছে।


মন্তব্য