kalerkantho


বাড্ডার আগুন নিয়ে ‘সন্দেহ’ শঙ্কামুক্ত নয় শিশু সানজিদা

রেজোয়ান বিশ্বাস   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বাড্ডায় বসতঘরের আগুনে মা ও ছেলের মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে স্বজনরা। উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে তারা।

এদিকে পরিবারটির দগ্ধ আরেক সন্তান সানজিদার শারীরিক অবস্থা শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

শনিবার গভীর রাতে বাড্ডার বৈঠাখালী এলাকায় এ আগুনের ঘটনা ঘটে। মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয় প্রবাসী আব্বাস আলীর স্ত্রী জেসমিন আক্তার (৩২), পুত্র আমানউল্লাহ জিসান (১১) ও কন্যা সানজিদা (৮)। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘটেছে জেসমিন ও জিসানের।

বাড্ডা থানার ওসি ওয়াজেদ মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি রহস্যজনক বলে মনে হয়েছে। কেউ পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়েছে বলে স্বজনরা সন্দেহ করছে। তবে থানায় এসংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে মামলা হয়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জমির মালিকসহ অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে।

তবে কিভাবে আগুনের ঘটনা ঘটেছে তা স্পষ্ট হয়নি। হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন পার্থ শঙ্কর পাল জানান, আগুনে জেসমিনের শরীরের ৭০ শতাংশ, জিসানের ৩০ শতাংশ ও সানজিদার ২৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। শ্বাসনালি পুড়ে যাওয়ায় সানজিদার শারীরিক অবস্থাকে শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না।

এদিকে বসতঘরের এ আগুন নিয়ে শুরু থেকেই সন্দেহ প্রকাশ করছে প্রবাসী আব্বাস আলীর স্বজনরা। ভাই নূর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগুনের ঘটনাটি পরিকল্পিত। পুলিশকেও এই কথা বলেছি। ভালো করে তদন্ত করলেই আসল রহস্য বের হবে। ভাই কুয়েত থেকে আসার পর মামলা করা হবে। মা ও ছেলেকে বাঁচানো গেল না। এখন সানজিদার জন্য চেষ্টা চলছে। ’

সন্দেহ প্রসঙ্গে নূর আলম বলেন, ‘আমার ভাই বিদেশে চলে যাওয়ার পর জমির মালিক ফরিদ জায়গা  ছেড়ে দিতে চাপ দিচ্ছিলেন। ভাবি তাঁর স্বামীর কাছ থেকে এককালীন নেওয়া তিন লাখ টাকা ফেরত দিতে বলেন জমির মালিককে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন। টাকা ফেরত না দিয়ে ঘর ছাড়ার জন্য হুমকি দিচ্ছিলেন। ভাবি মৃত্যুর আগে বলে গেছেন, আগুন দেখে তিনি দুই সন্তান নিয়ে বাইরে বের হতে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বাইরে থেকে ঘর আটকানো ছিল। ’ স্বজনরা জানায়, আব্বাস আলী ফার্নিচারের ব্যবসা করতেন। বৈঠাখালী এলাকার মোহাম্মদ ফরিদ নামে একজনের কাছ থেকে ছয় কাঠা জমি লিজ নিয়ে সেখানে দোকান করেছিলেন। ব্যবসায় লোকসান হলে তিনি এক বছর আগে কুয়েত চলে যান। আর যেখানে দোকান দিয়েছিলেন সেই জমিতেই টিনশেড দোতলা ঘর করে স্ত্রী-সন্তানদের রেখে যান। আজ মঙ্গলবার আব্বাস দেশে ফিরতে পারেন। তার পরই মামলাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পরিবার সদস্যরা জানায়।


মন্তব্য