kalerkantho


রোহিঙ্গা সংকট

বিদেশি ত্রাণে নজরদারি শুল্ক গোয়েন্দার

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বের অন্তত ১০টি দেশ ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৭৫ টন এসেছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে।

বাকিটা এসেছে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে। স্থলবন্দর দিয়ে এখনো কোনো ত্রাণ আসেনি। আর আসার পথে রয়েছে আরো বিপুল পরিমাণ ত্রাণ।

এসব ত্রাণ বন্দর থেকে সরবরাহ নেওয়ার আগে তদারকি করতে চায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গত ১৪ সেপ্টেম্বর শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে যুগ্ম পরিচালক শামীমা আক্তার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেশের সব বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দরের কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

কী কারণে এই তদারকি জানতে চাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তারেক মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকার মানবিক দিক বিবেচনায় ত্রাণ খালাসে শুল্ক, কর ও ভ্যাট অব্যাহতি দিয়েছে। এই সুযোগে কেউ এবং কোনো পক্ষ যাতে এর অপব্যবহার করতে না পারে সে জন্য আমরা তদারকি করছি। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আমদানি নিষিদ্ধ ও অবৈধ পণ্য যাতে ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে দেশে ঢুকতে না পারে সে জন্য আমরা গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রেখেছি। প্রতিটি চালানে কাস্টমসের সঙ্গে আমরাও বিশেষভাবে নজর রাখছি।

কখনো চালান ধরে দৈবচয়ন ভিত্তিতে পরীক্ষা করে দেখছি। তবে এখনো তেমন কিছু ধরা পড়েনি। ’

নিয়মানুযায়ী কোনো পণ্য বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে সরবরাহ নিতে গেলে সংশ্লিষ্ট কাস্টমসের অনুমতি লাগবে। শুল্ক, ভ্যাট ও আয়কর পরিশোধ না করলেও কাস্টমসের অনুমতি নিতে হবে।  

শুল্ক গোয়েন্দার চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার এ এফ এম আবদুল্লাহ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ত্রাণের চালান ছাড়পত্র অনুমোদনের আগে আমরা বেশ কিছু চালান খুলে দেখেছি। সে রকম কিছু পাইনি। এর পরও আমরা সতর্ক রয়েছি। ’

জানা গেছে, বিদেশ থেকে আসা ত্রাণসামগ্রী বন্দর থেকে সরবরাহ নিতে হলে ১৯৯২ সালের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা মানতে হতো। সরকার, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, এনজিও, ব্যুরোর অধীনে নিবন্ধিত কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা অনিবন্ধিত দেশি ও বিদেশি সংগঠনের নামে আসা ত্রাণ শর্ত সাপেক্ষে শুল্ক ও কর থেকে অব্যাহতি পাওয়া যেত। কিন্তু গত ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য বিভিন্ন দেশ  থেকে পণ্যসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। এসব পণ্য কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছে না। তাই এসব পণ্য দেশে প্রবেশে কোনো ধরনের রাজস্ব গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন আদেশ অনুযায়ী, আগে শুল্ক ও ভ্যাট অব্যাহতি থাকলেও এখন কোনো ধরনের আয়করও দিতে হবে না। ফলে এসব পণ্য খালাসে কোনো ধরনের শুল্ক কর থাকল না।

জানা গেছে, এরই মধ্যে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভারত, মরক্কো, ইরান ও সৌদি আরব থেকে ৩৭৫ টন ত্রাণসামগ্রী দেশে পৌঁছেছে। এর বাইরে তুরস্ক, আজারবাইজান, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ত্রাণ এসেছে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে। বিদেশ থেকে এসব ত্রাণ আসার পর জেলা প্রশাসন সেগুলো গ্রহণ করছে। আর সরকারের নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বন্দর থেকে পণ্য খালাস করে নিচ্ছে। পরে সেগুলো সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ত্রাণভাণ্ডারে পৌঁছানো হচ্ছে। সেখান থেকে সমন্বয় করে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে।


মন্তব্য