kalerkantho


পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

দুর্গাপূজার খরচ বাঁচিয়ে সহায়তা করা হবে রোহিঙ্গাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মিয়ানমারে জাতিগত নির্মূলের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের খরচ বাঁচানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ। বাঁচানো টাকা রোহিঙ্গাদের সহায়তায় কাজে লাগানো হবে।

গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার পাল।

তাপস কুমার পাল বলেন, ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভয়াবহ অমানবিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি আমরা। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দুর্গাপূজায় উৎসবের খরচ বাঁচিয়ে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এগিয়ে যাব। ’ কেন্দ্রীয় পরিষদের এ সিদ্ধান্ত দেশের সব পূজা কমিটিগুলোকে জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠীতে দুর্গার বোধনের মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গোৎসব। ৩০ সেপ্টেম্বর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হবে। এবার দেবী আসছেন নৌকায়, যাবেন ঘোটকে।

সংবাদ সম্মেলনে শারদীয় দুর্গাপূজায় তিন দিনের ছুটি ঘোষণা, ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট বাতিল করে হিন্দু ফাউন্ডেশন গঠন, দুর্গোৎসবে বঙ্গভবন, গণভবন, নগরভবন ও জেলা পর্যায়ে সরকারি ভবনগুলোয় আলোকসজ্জা, সব কারাগারে পূজার দিন উন্নত খাবার পরিবেশন, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষাসহ সব নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ রাখা এবং মণ্ডপে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। সারা দেশে মণ্ডপের সংখ্যা ৩০ হাজার ৭৭টি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৯ হাজার ৩৯৫টি। রাজধানী ঢাকায় এবার পূজা হচ্ছে ২৩১টি মণ্ডপে। এ বছর সবচেয়ে বেশি পূজা হচ্ছে চট্টগ্রামে, এক হাজার ৭৬৭টি।  

বিজয়া দশমীর পরদিন আশুরা উদ্যাপিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পরিষদ যথানিয়মে বিজয়া দশমীর দিন-রাত ১০টার মধ্যেই শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা বিসর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তাপস কুমার পাল অভিযোগ করেন, ‘দুই-তৃতীয়াংশ দেবোত্তর সম্পত্তি জবরদখল করায় ঢাকেশ্বরী ও রমনা মন্দিরে ঢোকার পথ সংকীর্ণ হয়ে গেছে। পূজায় নিরাপত্তা ঝুঁকিরও শঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা। দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছিল, তা ছিল আমাদের স্বার্থপরিপন্থী। পরে আমাদের দাবির মুখে তা স্থগিত হলেও চাহিদা অনুযায়ী দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ আইন এখনো প্রণয়ন করা হয়নি। হিন্দু ফাউন্ডেশন গঠনের দাবিও পূরণ করেনি সরকার। ’

সংবাদ সম্মেলেন অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত সেন দীপু, স্বপন কুমার সাহা, কাজল দেবনাথ, বাসুদেব ধর, সাবিত্রী ভট্টাচার্য, নির্মল কুমার চ্যাটার্জি, বাবুল দেবনাথ, মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি ডি এন চ্যাটার্জি ও মহানগর সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ্যামল কুমার রায় প্রমুখ।


মন্তব্য