kalerkantho


ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থা

সেনা সদস্যরা আজ দায়িত্ব নিচ্ছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে আজ শনিবার থেকে সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিচ্ছে। এর ফলে এ কয়েক দিন যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ছিল তা কেটে যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব জানান। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় সাধনের বিষয়টি নির্ধারণের জন্যই এক দিন পিছিয়ে সেনা সদস্যদের শনিবার থেকে কাজে নামার সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে এরই মধ্যে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, প্রতিদিনই দেশের নানা স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক যানবাহন আসছে। এসব ত্রাণবাহী যানবাহন সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। প্রতিদিনই গড়ে ১০০ ত্রাণবাহী যানবাহন আসে। গতকাল শুক্রবার এক দিনেই ১২৯টি ত্রাণবাহী যানবাহন জেলা প্রশাসনের ত্রাণ নিয়ন্ত্রণ কক্ষে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘কোনো প্রস্তুতি, অবকাঠামো ও লোকবল ছাড়া লাখ লাখ মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণের ফলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীকে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও অস্থায়ী শেড (বস্তি) নির্মাণে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রদান করেন।

দেশে যেকোনো দুর্যোগের সময় মানবিক দিক বিবেচনায় সেনাবাহিনীর দায়িত্ব পালনের বিধান রয়েছে। ’

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার জানান, কক্সবাজার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পড়ছে। টেকনাফ-উখিয়া সীমান্ত থেকে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করছে রোহিঙ্গারা। এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার ১১৯ জন রোহিঙ্গাকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধরে কুতুপালং ও বালুখালী শিবিরে পাঠানো হয়েছে। এ কারণে সীমান্তের উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় পুলিশের ২২টি মোবাইল টিম টহল দিয়ে যাচ্ছে। তদুপরি কক্সবাজারে ১১টি পুলিশ চেকপোস্টও বসানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরো জানান, রোহিঙ্গা শিবিরে জঙ্গিবাদের উত্থান হতে দেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ দেশে রোহিঙ্গাদের জঙ্গি সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) নামের কোনো সংগঠনের অস্তিত্ব বা সংগঠনটির কোনো সদস্য নেই।


মন্তব্য