kalerkantho


রাতে চিকিৎসা, সকালে হাসপাতালের পাশে যুবকের লাশ

বুড়িচংয়ে হাসপাতাল, হোটেল মালিকসহ আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কংশনগর বাজারের গোমতী হাসপাতালের পাশ থেকে নাসির উদ্দিন উদ্দিন (৩৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নেওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মৃতদেহটি পাওয়া যায়। রহস্যজনক এ মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ হাসপাতালের মালিক এবং একটি খাবার হোটেলের মালিকসহ চারজনকে আটক করেছে।

হতভাগ্য যুবক নাসির উদ্দিন জেলার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামের হাজি সিরাজুল ইসলামের ছেলে। রাতে বাজারের জোনাকী হোটেলে খাবার খেয়ে অসুস্থ হাওয়ার পর যুবককে হাসপাতালটিতে নেওয়া হয়েছিল। নাসিরের বাবা সিরাজুল ইসলাম জানান, তাঁর ছেলে তিন বছর আগে বিদেশে থেকে ফিরে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর থেকে তিনি নিয়মিত বাড়িতে যেতেন না।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভারেল্লা উত্তর ইউনিয়নের কংশনগর জোনাকী হোটেলে বুধবার রাত ৯টার দিকে রাতের খাবার খান নাসির উদ্দিন। খাওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় হোটেলের লোকজন নাসিরকে পাশের গোমতী হাসপাতালে নিয়ে যায়। তারা নাসিরকে জরুরি বিভাগে দিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করে। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয়রা হাসপাতালসংলগ্ন একটি ওষুধের দোকানের সামনে তাঁর লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহাদাত হোসেন সকাল ১১টায় লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে হাসপাতালের মালিক মো. মমতাজ উদ্দিন, মালিকের ভাই মো. মিজানুর রহমান, ম্যানেজার মিল্টন ও জোনাকী হোটেলের মালিক মোসলেহ উদ্দিনকে আটক করেন।

মারা যাওয়া যুবক নাসির উদ্দিনের বাবা সিরাজুল ইসলাম জানান, নাসির তিন বছর আগে বিদেশে থেকে দেশে এসে বিবাহ করেন। গত কোরবানি ঈদের আগে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এর পর থেকেই তিনি আর বাড়িতে যেতেন না। এদিকে পুলিশ হোটেলের ম্যানেজার মিল্টনের কাছ থেকে নিহত নাসিরের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাতে নাসির উদ্দিন কংশনগর বাজারে যান। ওই সময় তিনি বাজারে জোনাকী নামের একটি খাবার হোটেলে রাতের খাবার খান এবং খাওয়া শেষে হোটেল থেকে প্যাকেটভর্তি খাবার নেন। এর আগে হোটেলের পাশের একটি সেলুনে চুল ও দাড়ি কাটান। হোটেলে বিল পরিশোধ করার সময় নাসির হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।

হাসপাতালের ম্যানেজার মিল্টন সাংবাদিকদের জানান, রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় কিছু লোক নাসিরকে অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে তাঁর বাবা হাজি সিরাজুল ইসলামসহ তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ তাঁকে নিতে আসেনি। রাত ১২টায় তিনি কিছুটা সুস্থ হলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় একটি সিএনজি অটোরিকশা ডেকে তাঁকে পাঠানোর সময় তিনি মোবাইল ফোনে ইলিয়াস নামের এক চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গেও কথা বলেন। মিল্টন আরো জানান, নাসিরের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনসেট দুটি ওই সময় বকেয়া টাকার জন্য জোনাকী হোটেল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল।



মন্তব্য