kalerkantho


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জলির মৃত্যু

‘অভিযোগপত্রে জবানবন্দির তথ্য বানোয়াট ও মিথ্যা’

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ও বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



‘অভিযোগপত্রে জবানবন্দির তথ্য বানোয়াট ও মিথ্যা’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আকতার জাহান জলির মৃত্যুর ঘটনার মামলায় পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) শিক্ষকদের জবানবন্দি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি বিভাগের সাত শিক্ষকের। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।

ওই শিক্ষকদের অভিযোগ, পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে শিক্ষকদের ১৬১ ধারার জবানবন্দির যে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা। তবে পুলিশ বলছে, সবার সঙ্গে কথা বলেই ওই জবানবন্দি উপস্থাপন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডে, সহযোগী অধ্যাপক মশিহুর রহমান, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবন থেকে আকতার জাহানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই দিনই আকতার জাহানের কক্ষে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। পরদিন মতিহার থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেন তাঁর ছোট ভাই কামরুল হাসান। এ মামলায় গত ২৫ আগস্ট সহকর্মী আতিক হাসানকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।  

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিভাগের সভাপতি ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডে বলেন, ‘আমরা জবানবন্দি দেই নাই, আমাদের কারো কারো সঙ্গে পুলিশ বিভিন্ন সময় কথা বলেছে মাত্র। আমরা পুলিশের কাছে বলিনি বা দাবি করিনি—এমন অনেক মনগড়া তথ্য দিয়ে এই জবানবন্দি সাজানো হয়েছে।’ 

ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডে বলেন, ‘কাউকে মামলার সাক্ষী বানালে তাঁকে অবশ্যই জানাতে হয়। আর ১৬১ ধারায় জবানবন্দি নিতে হলে স্বাক্ষরও নিতে হয়, কিন্তু সেটা করা হয়নি। অথচ পুলিশ আমাদের কাউকে কিছু না জানিয়ে আমাদের সহকর্মীদের উদ্ধৃত করে জবানবন্দির নামে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেছে।’

বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘পুলিশ আমাদের না জানিয়ে আমাদের জবানবন্দি চার্জশিটে উল্লেখ করে অশ্রদ্ধা করেছে। আমাদের রেকর্ড না নিয়ে মনগড়া কথা উল্লেখ করা হয়েছে।’

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ব্রজ গোপাল কর্মকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেই জবানবন্দি রেকর্ড করেছি। এক বছর তদন্ত করে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আমি একা কথা বলিনি, আমার সঙ্গে সিনিয়র অনেক অফিসার কথা বলেছেন ও তদন্ত করেছেন।’

এর আগে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের লিপু চত্বরে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন চলাকালে বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাশেদ রিন্টুর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডে প্রমুখ।



মন্তব্য