kalerkantho


জঙ্গি দমনে সারা দেশে অ্যান্টিটেররিজম ইউনিট

এস এম আজাদ   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জঙ্গি দমনে সারা দেশে পুলিশের বিশেষ ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এর নাম অ্যান্টিটেররিজম ইউনিট।

একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের (অ্যাডিশনাল আইজিপি) নেতৃত্বে এই নতুন ইউনিট শুধু জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে কাজ করবে। গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ অধিশাখা-৩ এ ইউনিটের জন্য ৫৮১ লোকবল অনুমোদন দিয়েছে। অস্ত্র ও যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং প্রশিক্ষণের পর শিগগিরই যাত্রা শুরু হবে এর।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, জঙ্গিবাদ দমনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গঠিত কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) স্পেশাল টাস্কফোর্স গ্রুপ (এসটিজি) অ্যান্টিটেররিজমের সহায়ক ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। সারা দেশে মেট্রোপলিটন, রেঞ্জ, জেলা পুলিশসহ সব বিভাগে কাজ করবে এ ইউনিট। অ্যাডিশনাল আইজিপি ছাড়াও উপমহাপরিদর্শকসহ (ডিআইজি) কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ‘চেইন অব কমান্ডের’ ভিত্তিতে এর নেতৃত্ব দেবেন। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, গত এক বছরে সিটিটিসি ইউনিট জঙ্গি দমনে প্রশংসনীয় কাজ করলেও সারা দেশে তাদের নেটওয়ার্ক ছিল না। একইভাবে এসটিজি সিআইডির নিজস্ব পরিমণ্ডলে কাজ করছিল। অ্যান্টিটেররিজম ইউনিট হলে জঙ্গি দমনের তথ্য সংগ্রহ এবং অভিযানের সীমাবদ্ধতাগুলো কমবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি—ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স) মো. মনিরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অ্যান্টিটেররিজম ইউনিট গঠিত হলে সারা দেশে জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রম নতুন মাত্রা পাবে বলে মনে করছি। আরো কিছু কাজ বাকি আছে। এরপর পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু হবে। ’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, সারা দেশে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে অ্যান্টিটেররিজম ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সারা দেশের জন্য সিটিটিসি ইউনিট গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া নিড বেইউজ ট্রেনিং, দেশে-বিদেশে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিশেষ টিম/ফোর্স/ব্যাটালিয়ন গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। রংপুর, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করেছে মন্ত্রণালয়। সংসদীয় কমিটিকে দেওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নিরোদ চন্দ্র মণ্ডল স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে পুলিশের চলমান বেশ কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। এর পরই সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অ্যান্টিটেররিজম ইউনিট গঠনে ইতিবাচক সারা মেলে।

গত বছরের মার্চ মাসে ডিএমপি সিটিটিসি ইউনিট চালু করে। পরে ডিআইজি মনিরুল ইসলামকে এ ইউনিটের প্রধান করা হয়। গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার পর ধারাবাহিক অভিযানে সিটিটিসির সাফল্য দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়। এর আগে ২০১৫ সালের অক্টোবরে যাত্রা শুরু করে সিআইডির এসটিজি। এ শাখা জঙ্গিদের তথ্য সংগ্রহ ও তদন্তের কাজ করছিল। তবে জঙ্গি প্রতিরোধে আট বছর আগে ২০০৯ সালে প্রথম পুলিশের আলাদা ইউনিট গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পুলিশ ব্যুরো অব কাউন্টার টেররিজম (পিবিসিটি) নামের ওই ইউনিট গঠনের প্রস্তাব বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আপত্তিতে আলোর মুখ দেখেনি।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সাত বছর অপেক্ষার পর পিবিসিটি অনুমোদন না পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে নিজস্ব বিভাগে ইউনিট গঠন করে পুলিশ। ডিএমপির ভেতরে এ ইউনিট গঠন করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। তবে এ ইউনিট দিয়ে সারা দেশে কাজ করা সম্ভব নয়। এ ছাড়া জঙ্গিবাদের হুমকির কারণে দেশে ব্যাপক হারে কার্যক্রম চালানোরও গুরুত্ব অনুভব করছে সবাই। এ ধারণা থেকেই অ্যান্টিটেররিজম। ’


মন্তব্য