kalerkantho


ইসির সংলাপে দুটি দল

সরকারব্যবস্থায় পরিবর্তন ও নির্বাচনে সেনা মোতায়েন দাবি

বিশেষ প্রতিনিধি   

৩১ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



সরকারব্যবস্থায় পরিবর্তনসহ নির্বাচনে কার্যকরভাবে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)। গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে পৃথক সংলাপে দল দুটি এই দাবিসহ নির্বাচন কমিশনকে আরো শক্তিশালী করার প্রস্তাব রেখেছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ কে এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে সকাল ১১টায় শুরু হওয়া দিনের প্রথম সংলাপে বিল্পবী ওয়ার্কার্স পার্টি নির্বাচন কমিশনের কাছে তাদের মোট ২৩ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব প্রস্তাবের মধ্যে যেগুলো ইসির এখতিয়ারভুক্ত নয়, সেগুলো বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশনকে তাদের সাংবিধানিক ও নৈতিক অবস্থান থেকে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে পরিপূর্ণ দায়-দায়িত্ব নিয়ে কথা বলতে হবে এবং তা বাস্তবায়নে নৈতিক প্রভাব প্রয়োগ করতে হবে।

দলটির অন্যতম প্রস্তাব, নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার পর থেকে ভোট সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকালীন তদারকি সরকারের ভূমিকা পালন করবে। এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা ছাড়া বেসামরিক প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনী, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। নির্বাচিত সরকারের কাছে তদারকি সরকারের জবাবদিহিতার বিধান থাকবে। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা যেতে পারে।

অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত ডেপুটি কমিশনার বা জেলা প্রশাসকদের বদলে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব দিতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করে নির্বাচনে তাদের ভূমিকা দৃশ্যমান করতে হবে। ‘না’ ভোটের বিধান চালু করতে হবে এবং  সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা জেলা সংখ্যার ভিত্তিতে ৬৪টিতে উন্নীত করে প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে এসব আসনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। জাতীয় সংসদের অর্ধেক আসনে প্রত্যক্ষ ভোট আর বাকি অর্ধেক আসনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালুরও প্রস্তাব দেয় দলটি।

বিকেলের সংলাপে জাগপা বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, বিচারপতি এবং দেশের বিশিষ্টজনদের সমন্বয়ে সৎ, গ্রহণযোগ্য, নির্দলীয় ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব রেখেছে। এ বিষয়ে দলটির আরো প্রস্তাব, নির্বাচনকালীন সরকারের শপথ গ্রহণের পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। জাগপার মোট ১৪ দফা প্রস্তাবের মধ্যে সেনাবাহিনী সম্পর্কে বলা হয়, নির্বাচনের ৩০ দিন আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং সেনাবাহিনীকে ম্যাজেস্ট্রেসি ক্ষমতা দিতে হবে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের রদবদল করে স্থানীয় প্রশাসনে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।

জাগপা নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সঙ্গে ভারসাম্য আনতে নির্বাচন কমিশনকে আরো ক্ষমতা দেওয়ারও সুপারিশ করে।

সংলাপে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পাটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের ১৩ জন উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে জাগপার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির আরো ১২ জন প্রতিনিধি।



মন্তব্য