kalerkantho


শেষ ধাপের ঈদ যাত্রা

মহাসড়কে বড় যানজটের শঙ্কা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩১ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের ঢল আরো বেড়েছে। গতকাল বুধবার যাত্রীবাহী যানবাহনের চাপ ছিল বেশি। ছোট ছোট যানজট ও খানাখন্দে সৃষ্ট ঝাঁকুনি সয়ে মানুষের দুর্ভোগ ছিল সহনীয় মাত্রার। তবে মহাসড়কে উভয়মুখী যানের যে চাপ রয়েছে তাতে বড় ধরনের যানজটের মুখোমুখি হতে পারে ঘরমুখো মানুষ। ঈদের আগে সরকারি-বেসরকারি অফিস ছুটি হচ্ছে আজ। ফলে শেষ ধাপের চাপ বাড়বে বিকেল থেকেই।

ঈদ যাত্রা স্বস্তির করতে মহাসড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী। যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে কাজ করছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের সব কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইজিপি।

গতকাল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজটমুক্ত গাড়ি চলাচল করেছে। গার্মেন্ট ছুটি হওয়ায় গাড়ির চাপ বেড়েছে, তবে উল্লেখ করার মতো যানজট হয়নি। কখনো ধীরগতি, কখনো স্বাভাবিক গতি নিয়ে গাড়ি চলাচল করেছে। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানের খানাখন্দ সংস্কার করা হচ্ছে।

গতকাল বিকেলে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রিমোড়ে যানজট পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই ঘরমুখো মানুষের স্বস্তির চলাচলকে বিঘ্নিত করা যাবে না। ঈদের দুই দিন আগে ভারী যানবাহন মহাসড়কে চলাচল করতে পারবে না।’

দুপুরে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রিমোড়ের পুলিশ কন্ট্রোলরুম উদ্বোধন করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। এ সময় তিনি বলেন, ‘ঈদে ঘরমুখো মানুষ যাতে যানজটে না পড়ে তার জন্য পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। নিরাপত্তা দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশের সব কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করা হয়েছে।’

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকা থেকে গজারিয়ার মেঘনা সেতু পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। গতকাল ভোর ৪টা থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে ঢাকা থেকে কুমিল্লার পথে তেমন যানজট নেই।

গজারিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) এসআই সাইফুল ইসলাম মজুমদার বলেন, চার লেনের গাড়িগুলো মেঘনা সেতুতে দুই লেনে চলাচল ও ধীরগতির কারণে এ যানজটের সৃষ্টি। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে হাইওয়ে পুলিশের চেষ্টা চলছে।

ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক, কুষ্টিয়া আঞ্চলিক সড়ক, রাজবাড়ী-বালিয়াকান্দি সড়কগুলোতে চলাচল করছে মহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, আলমসাধু, ভটভটি নামের থ্রি-হুইলার যান। ফলে দূরপাল্লার যানবাহন ধীরগতিতে চলছে, সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।

দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের ঢল নেমেছে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌপথে। গতকাল সকাল থেকে এই নৌপথে যাত্রীর চাপ বাড়তে শুরু করেছে। অতিরিক্ত গাড়ির চাপে ঘাট এলাকায় তিন কিলোমিটার সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে যানজট। গতকাল শিমুলিয়া ঘাট ঘিরে তিন শতাধিক যান পারাপারের অপেক্ষায় ছিল।

যাত্রীদের সুবিধার্থে এবারও শিমুলিয়া ঘাটের পাশাপাশি পুরনো কাওড়াকান্দি লঞ্চঘাটটি চালু রাখা হয়েছে। ঈদে যানবাহনের চাপ থাকায় বন্ধ রয়েছে ট্রাক পারাপার। লঞ্চ, স্পিডবোট ও ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ রুটে গতকাল গাড়ির চাপ ছিল বেশি। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে পরিবহন সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় যাত্রীদের। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মিরপুর, গুলিস্তান, পোস্তগোলা থেকে শিমুলিয়াগামী গণপরিবহনেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।


মন্তব্য