kalerkantho


যুক্তরাষ্ট্রকে প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা বিতাড়ন ঠেকাতে মিয়ানমারে চাপ বাড়ান

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৩১ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



রোহিঙ্গা বিতাড়ন ঠেকাতে মিয়ানমারে চাপ বাড়ান

ফাইল ছবি

নিজের নাগরিকদের বিতাড়িত করে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো ঠেকাতে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এলিস ওয়েলস গতকাল বুধবার সকালে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নিজেদের নাগরিক বলে স্বীকার না করলেও আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বাংলাদেশ তাদের ‘মিয়ানমার ন্যাশনালস’ (মিয়ানমারের নাগরিক বা বাসিন্দা) হিসেবে উল্লেখ করে থাকে।

প্রধানমন্ত্রী এমন এক সময় যুক্তরাষ্ট্রকে এ আহ্বান জানালেন যখন মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের শিকার হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার থেকে গতকাল পর্যন্ত ১৮ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। এর আগে থেকেই বাংলাদেশে অবস্থান করছে পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা।

এলিস ওয়েলসের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বঙ্গবন্ধুর খুনিদেরও ফেরত চান। সাক্ষাৎ অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুতে এলিস ওয়েলসকে বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছি এবং এটি আমাদের জন্য অনেক বড় একটি সমস্যা। তাই আমি আপনাকে বলব, আপনারা এ ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ান।’

বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক সংলাপ হচ্ছে কি না সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।’

এলিস ওয়েলস সন্ত্রাস নির্মূলে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। এ সময় তিনি এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাজ করার আগ্রহের কথাও জানান।

শেখ হাসিনা সন্ত্রাসকে তাঁর সরকারের ‘কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার নীতি’ পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘অন্য দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে আমরা আমাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেব না।’

যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশের ব্যাপক আর্থসামাজিক অগ্রগতি, বিশেষ করে বার্ষিক ৭.২৪ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরত পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাঁর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের মধ্যে রাশেদ চৌধুরী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। পলাতক অন্য খুনিরাও সেখানে যাতায়াত করেন বলে সরকারি সূত্রগুলো সন্দেহ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনায় শেখ হাসিনা তাঁর নেতৃত্বে বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের চমকপ্রদ উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য।

বেসরকারি খাতকে উৎসাহিতকরণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার সব খাত উন্মুক্ত করে দিয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে এ দেশের গণমাধ্যম পূর্ণ স্বাধীনতা পাচ্ছে। তারা স্বাধীনভাবে সরকারের সমালোচনা করছে। সরকার গণমাধ্যমে কোনো হস্তক্ষেপ করছে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে সাত শ দৈনিক পত্রিকা আছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বেসরকারি খাতে প্রায় ৪৪টি টেলিভিশন চ্যানেলকে অনুমতি দিয়েছি। সেগুলোর মধ্যে ২৪টি এখন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’


মন্তব্য