kalerkantho


সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল

দেশে গুম অপহরণের সংখ্যা বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩১ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



দেশে ‘গুম-অপহরণ’-এর সংখ্যা বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সরকারের প্রতি যাঁরা গুম হয়েছেন তাঁদের সবাইকে পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়ার এবং গুম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক গুম দিবসে গতকাল বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের জনপদ। বিনা বিচারে হত্যা-গুম এখন নিত্যদিনকার ঘটনা। বাংলাদেশে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ গুম-হত্যার শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। গুম হওয়া পরিবার, মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত সংঘটিত সব গুমের আঙুল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর র‌্যাব-পুলিশের দিকে।’

বিএনপি মহাসচিব জানান, ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এ এম এম আমিনুর রহমান গত ২৭ আগস্ট রাতে নয়াপল্টনের বাসা থেকে সাভারে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন, এখনো তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। সন্দেহ করা হচ্ছে, তাঁকেও একই পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে, তিনি (আমিনুর রহমান) গুম হয়েছেন। মির্জা ফখরুল অবিলম্বে কল্যাণ পার্টির মহাসচিবকে তাঁর পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। ‘গুম’-এর সঙ্গে রাষ্ট্রযন্ত্র জড়িত অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রথমে ধরে নিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করলেও পরবর্তী সময়ে কারো কারো লাশ পাওয়া বা আটক ব্যক্তিকে জনসমক্ষে হাজির অথবা কোনো থানায় তাকে হস্তান্তর করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্তে গুম প্রমাণিত হওয়ার পরও অভিযুক্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই ঘটনা ক্রমে বেড়েই চলেছে। পত্রিকার পাতা খুললে প্রায় প্রতিদিনই এ রকম অপহরণ কিংবা অপহরণের পর গুম অথবা অপহৃতের লাশ পাওয়ার সংবাদ দেখা যায়। আমরা আবারও দাবি জানাচ্ছি, যাঁরা গুম হয়েছেন তাঁদের সবাইকে তাঁদের পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হোক এবং গুম বন্ধ করা হোক।’

সংবাদ সম্মেলনের আগে ২০০৯ থেকে ২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত ‘গুম’ হওয়া নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের দুর্দশার ওপর নির্মিত ‘এনফোর্স ডিসএপিয়ারেন্স ইন বাংলাদেশ’ প্রামাণ্যচিত্র সাংবাদিকদের দেখানো হয়।

‘গুম’ ও ‘অপহরণ’ ঘটনা গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয় না বলেও আক্ষেপ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি গুমকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে হীন অপরাধের একটি উল্লেখ করে গণমাধ্যমের প্রতি বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়ে এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের ২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত এক হাজারের ওপরে নেতাকর্মীকে গুম-খুন করা হয়েছে।’ কেন গুমের ঘটনা ঘটছে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য একটাই—ভীতি সৃষ্টি করে, ত্রাস সৃষ্টি করে, যারা সক্রিয়ভাবে গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করে, যারা বাংলাদেশের স্বার্থে কাজ করে, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষে কাজ করে তাদের নিস্তব্ধ করে দেওয়া, নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া।

ফখরুল বলেন, ‘গুমের প্রায় সব ঘটনার বিষয় জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার কাছে পাঠিয়েছি। কয়েকটি ঘটনার তদন্তও চলছে।’ সংবাদ সম্মেলনে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মীর শরাফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান, শহিদুল ইসলাম বাবুল, কাজী আবুল বাশার প্রমুখ।



মন্তব্য