kalerkantho


১৪ কনটেইনার পণ্য পাচার

দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার বন্দরের তিন কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৩১ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



ব্যাংক, কাস্টমস ও বন্দরের কাগজপত্র জাল করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১৪ কনটেইনার পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে বন্দরের তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় গতকাল বুধবার দুপুরে বন্দরের নিলাম শাখা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বন্দরের সহকারী পরিদর্শক (পরিবহন) মনোয়ার হোসেন, উচ্চমান বহিঃসহকারী নুরুল ইসলাম চৌধুরী ও পুলক কান্তি দাশ।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বরে ঈদের ব্যস্ততার সুযোগে পাচারকারীচক্র বন্দরের ভেতর সংরক্ষিত এলাকা থেকে ১৪টি কনটেইনার ভর্তি পণ্য পাচার করে নিয়ে যায়। কনটেইনার না পেয়ে শিপিং এজেন্ট অভিযোগ জানালে সাত দিন পর চট্টগ্রামের হালিশহর থেকে কনটেইনারগুলো আটক করেন কাস্টমস গোয়েন্দারা। পরে তদন্ত করতে গিয়ে এই পাচারকারী চক্রের সঙ্গে বন্দর, কাস্টমস ও কিছু ব্যবসায়ীর যোগসাজশের তথ্য পাওয়া যায়। দীর্ঘ তদন্তের পর গতকাল হালিশহর থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এরপর ওই তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের চট্টগ্রাম বিভাগের উপসহকারী পরিচালক সাধন সূত্রধর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তদন্তে বন্দরের এই তিন ব্যক্তির নাম উঠে আসায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই মামলায় বেশ কজন এরই মধ্যে গ্রেপ্তার আছেন।’

তাঁদের বিরুদ্ধে বন্দর কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিচ্ছে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারি নিয়মানুযায়ী কোনো কর্মকর্তা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গেলে তাঁদের সাময়িক সাসপেন্ড করা হয়। তবে এখনো আমরা অফিসিয়ালি চিঠি পাইনি। তাই পদক্ষেপ কী হবে বলতে পারছি না।’

এর আগে কনটেইনার ভর্তি পণ্য পাচারের ঘটনায় কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মহসিন আলী বাদী হয়ে হালিশহর থানায় শুল্ক আইন ও প্রতারণা ধারায় মামলা করেন। মামলার চার আসামি হলেন সাইফুল হায়দার চৌধুরী, খলিলুর রহমান, মোহাম্মদ দেলোয়ার ও মোশারফ হোসেন মাসুম। তাঁরা এখন কারাগারে আছেন।

জানা গেছে, ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে দুই লটে আসে ১৪ কনটেইনার পণ্য। পোল্ট্রি ফিড বা মুরগির খাদ্য ঘোষণা দিয়ে এসব পণ্য আমদানি হলেও এগুলোতে গ্লিসারিন পণ্য ধরা পড়ে। পণ্যগুলো আটকের পর কাস্টম নিয়ানুযায়ী নিলাম শাখায় পাঠায়। কাস্টম কর্তৃপক্ষ পণ্যগুলো নিলামে তুললে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৭০ লাখ টাকায় ১৪ কনটেইনার পণ্য পান সাইফুল হায়দার চৌধুরী। কিন্তু সে সাইফুল হায়দার চৌধুরী পণ্যগুলোর বিপরীতে টাকা জমা না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সুযোগ খুঁজতে থাকেন। এরপর ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ঈদের ব্যস্ততার সুযোগে পণ্যভর্তি কনটেইনারগুলো বন্দর থেকে বের করে নিয়ে যান।

কাস্টমস, বন্দর ও সংশ্লিষ্ট নিলাম শাখার কর্মকর্তারা জানান, ১৪ কনটেইনার পণ্য বন্দর থেকে বের করতে সব ক্ষেত্রেই জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। কাস্টমসের নিলাম শাখা থেকে ডেসপাস নম্বর ভুয়া, নিলামে পাওয়ার পর সোনালী ব্যাংকে ৭০ লাখ টাকা জমা দেওয়ার স্লিপও ভুয়া, চট্টগ্রাম কাস্টমস থেকে পণ্য ছাড়ের ডেলিভারি অর্ডারে সহকারী কমিশনারের সিল পর্যন্ত ভুয়া। বন্দর ফটকের নিরাপত্তারক্ষীদের যোগসাজশও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।


মন্তব্য