kalerkantho


মাদারীপুরে নিতু হত্যা

বখাটে মিলনের ফাঁসির আদেশ

মাদারীপুর প্রতিনিধি   

২২ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



বখাটে মিলনের ফাঁসির আদেশ

নিহত নিতু মণ্ডল

মাদারীপুরে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী নিতু মণ্ডল হত্যা মামলার একমাত্র আসামি মিলন মণ্ডলকে ফাঁসির রায় দিয়েছেন মাদারীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে আদালতের বিচারক শরীফ উদ্দিন আহমেদ এ আদেশ দেন। এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নিহতের বাবা ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর স্কুলে যাওয়ার পথে নিতু মণ্ডলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে একই গ্রামের মিলন মণ্ডল। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই সে মারা যায়। এ ঘটনায় ওই দিনই কালকিনির ডাসার থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা নির্মল মণ্ডল।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি উপজেলার ডাসার থানার নবগ্রাম ইউনিয়নের আইসারকান্দি গ্রামের কাঠমিস্ত্রি নির্মল মণ্ডলের মেয়ে নিতু মণ্ডলকে প্রতিবেশী বখাটে যুবক মিলন মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। উত্ত্যক্তকারী যুবক মিলন গ্রামের বিরেন মণ্ডলের ছেলে এবং কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার পথে নিতুকে প্রেমের প্রস্তাব দিত মিলন। কিন্তু সে প্রতিবারই তা প্রত্যাখ্যান করত। এ জন্য মিলন ক্ষিপ্ত হয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে নিতুকে বাধা দেয়। এ সময় প্রতিবাদ করলে ওই বখাটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিতুর পেটে ও পিঠে আঘাত করে। স্থানীয়রা মিলনকে আটক করে পুলিশে দেয়।

স্কুলের সহপাঠী সোমা বালা, শিউলীসহ অন্যরা বলে, ‘নিতুর ইচ্ছা ছিল সে ডাক্তার হবে। গ্রামের গরিব মানুষের সেবা করবে। কিন্তু তা হলো না। বখাটে মিলন তার সেই স্বপ্ন পূরণ হতে দেয়নি। আমরা মিলনের ফাঁসির দাবিতে দীর্ঘদিন মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছি। আজ সেই দাবি পূরণ হলো। এখন এই রায় বাস্তবায়নের দাবি জানাই।’

নিতুর স্কুল নবগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহদেব চন্দ্র বাড়ৈ বলেন, ‘নিতু খুবই মেধাবী ছিল। মিলনের ফাঁসির রায়ে আমরা খুশি হয়েছি।’

নিহতের ছোট ভাই দীপ্ত মণ্ডল বলে, নাচ-গানে দিদি খুব ভালো ছিল। গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দিদি নাচত। সে স্কুলসহ নানা প্রতিযোগিতায় অনেক পুরস্কার পেয়েছিল। সেই দিদিকে এভাবে হারাতে হবে, তা ভাবিনি। আজকে ফাঁসির রায়ে কিছুটা হলেও শান্তি পেয়েছি। এখন দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানাই।’

নিতুর বাবা ও মামলার বাদী নির্মল মণ্ডল বলেন, ‘এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট হয়েছি। আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে। এখন যত দ্রুত সম্ভব রায় কার্যকরের দাবি জানাই। সেই সঙ্গে যারা এই রায়ের জন্য কষ্ট করেছেন তাঁদের ধন্যবাদ জানাই।’ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এমরান লতিফ বলেন, ‘আমরা এই রায়ে খুশি।’

মাদারীপুর জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার কণা বলেন, নিতু মেধাবী ছিল। মাদারীপুরবাসী এই রায়ের অপেক্ষায় ছিল। আজ এই ফাঁসির আদেশে মাদারীপুরবাসীসহ সকলেই সন্তুষ্ট হয়েছে। এই রায়ের ফলে দেশের বখাটেরা কিছুটা হলেও ভয় পাবে।



মন্তব্য