kalerkantho


গণধর্ষণের পর নারী শ্রমিককে গলা কেটে হত্যা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



গণধর্ষণের পর নারী শ্রমিককে গলা কেটে হত্যা

নরসিংদীর পলাশে গণধর্ষণের পর এক নারী শ্রমিককে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম মনি বিশ্বাস (১৮)। গতকাল সোমবার সকালে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার পাইকসা গ্রাম থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি স্থানীয় একটি কম্পানিতে চাকরি করতেন।

বরগুনার বেতাগীতে শিক্ষিকা ধর্ষণের ঘটনায় আসামি জুয়েল আত্মসমর্পণ করেছে। গতকাল আইন ও সালিশ কেন্দ্রের একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষিকা অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বরগুনায় গতকালও পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। নীলফামারীর ডিমলায় মাকে বেঁধে মেয়েকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। বিস্তারিত আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধির পাঠানো খবরে—

নরসিংদীতে গতকাল সকালে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার পাইকসা গ্রাম থেকে মনি বিশ্বাস নামে এক নারী শ্রমিকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গণধর্ষণের পর ওই শ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে। মনি বিশ্বাস স্থানীয় একটি কম্পানিতে চাকরি করতেন।

নিহতের মা বলেন, ‘আমি ও আমার মেয়ে কম্পানিতে কাজ করি। রবিবার আমার রাতে ডিউটি ছিল। মেয়েকে ঘরে একা রেখে আমি কাজে যাই। সকালে ফিরে এসে দেখি, মেয়ের গলাকাটা লাশ বাড়ির সামনে সবজির টালের নিচে পড়ে আছে।’

পলাশ থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গণধর্ষণের পর ওই নারী শ্রমিককে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

বরগুনার বেতাগীতে শিক্ষিকা ধর্ষণ ঘটনার এজাহারভুক্ত আসামি জুয়েল আত্মসমর্পণ করেছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সে আত্মসমর্পণের জন্য হোসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে আসে। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। গতকাল দুপুরে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তারা ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকাকে আইনি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেয়।

এদিকে নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষিকা অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশের একটি অ্যাম্বুল্যান্সে তাঁকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষিকা ধর্ষণ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে বরগুনায় পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায়  মামলা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীর বাবা অসুস্থ অবস্থায় বাগেরহাটে চিকিত্সাধীন। বাবাকে দেখাশোনার জন্য মা সঙ্গে রয়েছেন। শিশুটিকে বাড়িতে একা পেয়ে বাবার চাচাতো ভাই জাকারিয়া ওরফে জাকু তাকে নির্যাতন করে।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় মাকে বেঁধে রেখে মেয়েকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। গত রবিবার রাতে ৯ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার আসামিরা হলেন আব্দুর রহিম (৩০), দেলোয়ার হোসেন (৩৮), মিস্টার আলী (৩৪), ফিরিজুল ইসলাম (৩৫), নুর মোহাম্মদ (৪৫), ফরিদুল ইসলাম (৩৫), আলমগীর হোসেন (৩০), নির্মল চন্দ্র  রায় (৪০) ও মঙ্গলু রায় (৪০)।

গত শনিবার রাত ৩টার দিকে ঝুনাগাছচাপানী ইউনিয়নে অসুস্থ মা ও নির্যাতনের শিকার মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। ডিমলা থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালের চিকিত্সক সুলতানা রাজিয়া বলেন, ‘প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।’

 

হবিগঞ্জে শিশু ধর্ষণের দায়ে দুই যুবকের যাবজ্জীবন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জে শিশু ধর্ষণের দায়ে জসিম উদ্দিন (২১) ও নুরুল আমিন (২২) নামের দুই যুবককে যাবজ্জীবন করাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া অপহরণের দায়ে তাদের আরো ১৪ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। গতকাল সোমবার বিকেলে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাফরোজা পারভিন এ রায় দেন। 

জসিম উদ্দিন জেলার বানিয়াচং উপজেলার প্রথমরেখ মহল্লার ওয়াহাব মিয়ার ছেলে এবং নুরুল আমিন একই মহল্লার আব্দুল আলীর ছেলে। আদালত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকায় মামলার আসামি ওই একই মহল্লা মৃত কারবারী উল্লাহর মেয়ে রুহেনা আক্তারকে (২৭) খালাস দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৪ এপ্রিল বানিয়াচং উপজেলার প্রথমরেখ মহল্লায় গোপেন্দ্র সরকারের বাড়িতে বেড়াতে যায় তাঁর শ্যালিকা (১৪)। ওই দিন  মধ্যরাতে জসিম উদ্দিন ও নুরুল আমিন ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মেয়েটিকে মুখে গামছা পেঁচিয়ে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে পালক্রমে ধর্ষণ করে।



মন্তব্য