kalerkantho


হাইকোর্টে আজ মামলার রায় ঘোষণা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



হাইকোর্টে আজ মামলার রায় ঘোষণা হচ্ছে

বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মামলায় আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টে রায় ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। এর আগে গত ১৩ আগস্ট রায়ের জন্য দিন নির্ধারিত থাকলেও রায় প্রস্তুত না হওয়ায় সেদিন রায় ঘোষণা করা হয়নি। ২২ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়।

নিম্ন আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য পাঠানো ডেথ রেফারেন্স ও আসামিপক্ষের করা আপিলের ওপর গত ২৬ জুলাই শুনানি শেষে ১৩ আগস্ট রায়ের দিন নির্ধারণ করেন আদালত। কিন্তু নির্ধারিত দিনে সকাল সাড়ে ১০টার পর বিচারকরা এজলাসে বসে রায় ঘোষণার নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এর আগে রায় ঘোষণা হবে বলে আদালতে আসামিপক্ষে সিনিয়র আইনজীবী সাবেক বিচারপতি মো. মুনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামসহ অপরাপর আইনজীবী উপস্থিত হন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারওয়ার কাজল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই মামলায় গত ১৬ জানুয়ারি রায় দেন। রায়ে মোট ৩৫ আসামির মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

গত ২২ জানুয়ারি নিম্ন আদালত থেকে ডেথ রেফারেন্স তথা মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য পূর্ণাঙ্গ রায়সহ যাবতীয় নথি পাঠানো হয় হাইকোর্টে। পরে কারাবন্দি আসামিরা পর্যায়ক্রমে আপিল করেন। এরপর প্রধান বিচারপতির নির্দেশে ছয় হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক তৈরি করা হয়। মামলাটি প্রথমে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠানো হলেও পরে গত ১৭ মে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে পাঠানো হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তত্কালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তাঁর গাড়িচালক ও তিন সঙ্গী এবং আইনজীবী চন্দন সরকার ও তাঁর গাড়িচালককে দিনদুপুরে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই রাতে শরীরে নেশাযুক্ত ইনজেকশন পুশ করে এবং শ্বাসরোধে তাঁদেরকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুম করার জন্য পেট কেটে ইটভর্তি দুটি বস্তা শরীরে বেঁধে মেঘনার মোহনায় শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। তিন দিন পর লাশ ভেসে উঠলে জানা যায়, সেগুলো অপহৃত সাতজনের লাশ। নিহত সাতজনের মধ্যে অন্যরা হলেন সিরাজুল ইসলাম লিটন, তাজুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান স্বপন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর এবং অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহিম।

ওই ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ নূর হোসেন, তারেক সাঈদসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল পৃথক চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয়। তবে দুই মামলার অভিযোগপত্রেই আসামি অভিন্ন।



মন্তব্য