kalerkantho


বিদায়ী ইইউ রাষ্ট্রদূত

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আগ্রহ সর্বত্রই দেখেছি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২২ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আগ্রহ সর্বত্রই দেখেছি

আগামীতে একটি ‘স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক’ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদী ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিদায়ী রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদোন। তিনি বলেন, বাংলাদেশজুড়ে এমন নির্বাচনের ব্যাপারে জোরালো আগ্রহ ও প্রত্যাশা রয়েছে। এ ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিও তিন বছর আগের চেয়ে অনেক শান্ত। ইইউর বিদায়ী রাষ্ট্রদূত গতকাল সোমবার ঢাকায় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। মায়াদোন বলেন, ‘অবশ্যই আমি সব পক্ষের মধ্যে আগ্রহ দেখেছি। দেশকে এগিয়ে নিতে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা আছে।’

বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, ইইউ রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে তিন বছর দায়িত্ব পালন শেষে আগামী বৃহস্পতিবার ঢাকা ছাড়ছেন। তিনি গতকাল তাঁর নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে গত জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট বিরূপ প্রভাবের বিষয়গুলো স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো উচিত—এটি সবাই বুঝতে পেরেছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘অকপটে বলছি, আমার মনে হয় এমনটি (গত নির্বাচন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি) আর হবে না।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক এজেন্ডাকে সামনে এগিয়ে নিতে আগামী নির্বাচন একটি সুুযোগ হিসেবে নিশ্চিত করার ব্যাপারে সব পক্ষের মধ্যেই তিনি জোরালো আগ্রহ দেখেছেন।

ইইউ রাষ্ট্রদূত মনে করেন, নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আলোচনা নিঃসন্দেহে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ও সংশ্লিষ্ট সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের পথ দেখাবে। সব পক্ষই এখন সচেতন।

ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত মায়াদোন বলেন, এ মিশন কেবল ভোটের দিন নয়, বরং আরো বড় পরিসরে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন চাইলে ইইউ যেকোনো ধরনের সহযোগিতা দিতে আগ্রহী বলেও তিনি জানান।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রদূত বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ইইউর অনেক পুরনো অংশীদারি ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে তিনি তাদের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার বাংলাদেশে ইইউর শীর্ষ এজেন্ডা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এসব খাতের বিষয়ে কাজ করার সুযোগ তাঁরা কখনো হাতছাড়া করতে চান না।

তিন বছর আগের বাংলাদেশ পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করতে বললে রাষ্ট্রদূত মায়াদোন বলেন, ব্যাপক আন্দোলনের কারণে তখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল অনেক বিক্ষুব্ধ। নিরপরাধ মানুষ হত্যার শিকার হচ্ছিল।

মায়াদোন বলেন, ‘তিন বছর পর আজ পরিস্থিতি অনেক শান্তিপূর্ণ।’

ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, গত জাতীয় নির্বাচন অনেককেই হতাশ করেছিল। এটি এখন অতীত এবং এ থেকে শিক্ষা হয়েছে।

বাংলাদেশে তিন বছর ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসেবে নিজের ভূমিকা মূল্যায়ন করতে গিয়ে মায়াদোন বলেন, ‘কোনো অতিরঞ্জন ছাড়া অকপটে বলতে হবে, সম্ভবত এটি আমার পেশাগত জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কারের সময়।’

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যাঁ-ক্লদ জাঙ্কার অনিয়মিত অভিবাসীদের ফিরিয়ে না আনলে বাংলাদেশিদের ভিসা সীমিত করার যে হুমকি দিয়েছেন সে বিষয়টি উল্লেখ করে ইইউ রাষ্ট্রদূতের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ইইউ বাংলাদেশের প্রতি হঠাৎ এত নিষ্ঠুর হচ্ছে কেন?

জবাবে মায়াদোন বলেন, তাঁরা নিষ্ঠুর নন। ইইউ বাংলাদেশিদের জন্য উন্মুক্ত। প্রতিবছর ইইউ সদস্য দেশগুলোতে গড়ে ২০ হাজার বাংলাদেশি ‘রেসিডেন্ট পারমিট’ নিয়ে কাজ ও বসবাসের সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু দুই বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশিদের ইউরোপে ঢোকার চেষ্টার হার অনেক বেড়ে গেছে।

ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘জনগণের জীবন রক্ষা করা আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা মানবিক সব প্রেক্ষাপট থেকে বিষয়টি দেখছি।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইউরোপ থেকে অনিয়মিত অভিবাসীদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ইইউর সঙ্গে প্রস্তাবিত ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি)’ নিয়ে কাজ করছে।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সন্ত্রাস ও সহিংস উগ্রবাদের মূল কারণ দূর করতে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।’ তিনি স্বীকার করেন, বিশ্বের কোনো দেশই সন্ত্রাস ও সহিংস উগ্রবাদের ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়।



মন্তব্য