kalerkantho


৬৯ দিন পর মহাসড়কে যুক্ত হলো পাহাড়ধসে বিচ্ছিন্ন রাঙামাটি

ফজলে এলাহী, রাঙামাটি   

২২ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



৬৯ দিন পর মহাসড়কে যুক্ত হলো পাহাড়ধসে বিচ্ছিন্ন রাঙামাটি

সেতুটি মেরামতের ফলে ৬৯ দিন পর গতকাল থেকে শুরু হয়েছে রাঙামাটির সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। ছবি : কালের কণ্ঠ

পাহাড়ধসে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ৬৯ দিন পর গতকাল সোমবার সকালে আবারও সরাসরি বাস সংযোগে যুক্ত হয়েছে পার্বত্য শহর রাঙামাটি। গতকাল দুপুর সাড়ে ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে এই সড়কে নবনির্মিত বেইলি ব্রিজটি।

প্রবল বর্ষণে গত ১২ ও ১৩ জুন পাহাড়ধসে ১২০ জনের মৃত্যু, অসংখ্য বাড়িঘর ধ্বংস এবং অন্তত ৫৪টি স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কটিও বন্ধ হয়ে যায়। এক সপ্তাহ পর ২১ জুন একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণের পর হালকা যানবাহন চলাচল শুরু করলেও দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে সারা দেশের সঙ্গে সরাসরি বড় যান চলাচল বন্ধই ছিল। তবে রাঙামাটি থেকে ঘাগড়া পর্যন্ত ট্যাক্সি কিংবা হালকা যানবাহনে চড়ে সেখান থেকে বড় গাড়িযোগে চট্টগ্রামে যাতায়াত করতে হতো রাঙামাটির মানুষকে। চট্টগ্রাম থেকেও বড় গাড়ি একইভাবে রাঙামাটির ঘাগড়া পর্যন্ত এসেই থেমে যেতে বাধ্য হতো।

রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের দেপ্প্যছড়ি এলাকায় ধসে পড়া সড়কটির পাশেই একটি অস্থায়ী বেইলি ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয় ২৩ জুন। দুই মাসে প্রায় দুই কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি গতকাল সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়। এর আগে রবিবার রাতে রাঙামাটি শহরে মাইকিং করে শহরবাসীকে গাড়ি চলাচল শুরুর বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল সেতু খুলে দেওয়ার পর বহুদিন পর পাহাড়িকা পরিবহন ও ঢাকা থেকে আসা বড় গাড়িগুলো শহরে প্রবেশ করে। প্রাথমিকভাবে সড়কটিতে সর্বোচ্চ ১০ টন পণ্য নিয়ে গাড়ি যাতায়াত করতে পারবে। ধীরে ধীরে মহাসড়কে চলাচল উপযোগী যেকোনো ওজনের গাড়ি চলাচল সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সড়ক বিভাগ।

রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন বলেন, ‘এখন বড় বাস ও মাঝারি আকারের ট্রাক চলাচল করতে পারবে। যেহেতু নতুন সেতু তাই আমরা ধীরে ধীরে এর ওপর চাপ বাড়াতে চাই। আশা করছি, ঈদের আগেই সব ধরনের যান চলাচল করতে পারবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বেইলি ব্রিজ অস্থায়ী সমাধান। এসব ব্রিজ ১০-১৫ বছর সক্ষম থাকে। রাঙামাটির এই সেতুটির দৈর্ঘ্য ১২০ ফুট, প্রস্থ ১২ ফুট। যেহেতু ব্রিজ দিয়ে যান চলাচল শুরু হলো, সেহেতু আমরা এখন মূল সড়কের কাজ শুরু করতে পারব। সেতুর পাশে পাহাড় কেটে নতুন ও বড় আকারে সড়ক পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।’

সরাসরি যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রাঙামাটি বাস মালিক সমিতির সভাপতি মঈনউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘এর মাধ্যমে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বিড়ম্বনার শিকার হওয়া রাঙামাটিবাসীর মুক্তি মিলল। এর মধ্য দিয়ে পরিবহন শ্রমিকদেরও দুর্বিষহ দিনযাপনের অবসান ঘটবে।’

রাঙামাটির বৃহত্তর বনরূপা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবু ছৈয়দ বলেন, ‘রাঙামাটির মানুষের দুর্বিষহ অবস্থা থেকে যেন মুক্তি মিলল আজ।



মন্তব্য