kalerkantho


উবারে স্বস্তি মধ্যবিত্তের

আরিফুজ্জামান তুহিন   

১৮ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০



উবারে স্বস্তি মধ্যবিত্তের

রাজধানীর গণপরিবহন সংকট নিয়ে সমালোচনার শেষ নেই। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি কোনো।

সকাল-সন্ধ্যা নেই, রাস্তায় নামলেই বিপাকে পড়ে যাত্রীরা। সরকার কিংবা বেসরকারি পর্যায়ে এ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ না হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ কমছে না। গত ১ জুন থেকে সর্বশেষ গ্যাসের দাম বাড়ায় এখন সিএনজি অটোরিকশার চালকরা মিটারে যেতে চায় না। ঢাকায় একসময় কালো রঙের ট্যাক্সি ক্যাব চলত। তবে কিছুদিন না যেতেই সেগুলোর অবস্থা মুড়ির টিনের মতো হয়ে যায়। আর হলুদ রঙের ট্যাক্সি ক্যাবে ওঠার সামর্থ্য নেই খুব বেশি মানুষের। এ অবস্থায় স্মার্টফোনের অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সংস্থা উবার ঢাকায় যাত্রীসেবা শুরু করায় মধ্যবিত্তরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে।

নিয়মিত উবারে যাতায়াতকারী ফারুক তুষার নামের এক যাত্রী গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিএনজি অটোরিকশা যেতে চায় না। রাজি হলেও বেশি টাকা চায়।

উবারে এসব সমস্যা নেই। আর সিএনজির মিটারের সঙ্গে তুলনা করলে ভাড়াও খুব বেশি পড়ে না। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নিরাপত্তা। রাতে উবারে চড়লেও নিরাপদ বোধ করি। সিএনজিতে সে নিরাপত্তা নেই। ’

একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী আসিফ হাসানের মতে, উবার চালু হওয়ায় অনেক স্বস্তি এসেছে। যদিও উবারের গাড়ি কম। কিন্তু সেবা ভালো। ব্যতিক্রম যে নেই, তা না। তবে তা হাতে গোনা। উবারের গাড়ি আরো বাড়ানো দরকার।

গত বছরের নভেম্বর থেকে ঢাকার রাস্তায় উবারের যাত্রা শুরু হয়। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা উবারের গাড়ি পাওয়া যায়। তবে উবারের নিজস্ব কোনো গাড়ি নেই। ব্যক্তিগত গাড়ি যে কেউ চাইলে উবারের নেটওয়ার্কে চালাতে পারেন। ঢাকায় উবারের ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে।

উবার স্মার্টফোনের অ্যাপের মাধ্যমে গাড়ির মালিক ও চালকদের সঙ্গে যাত্রীদের এজেন্ট হিসেবে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। গাড়ির চালক ও যাত্রীদের অনলাইনে নিবন্ধন করতে হয়। উবারে গাড়ি দিয়েছেন এমন একাধিক মালিক ও ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রাহকের কাছ থেকে যে অর্থ নেওয়া হয় তার ২৫ শতাংশ উবার কমিশন হিসেবে কেটে নেয়। তাঁরা বলছেন, কমিশনের এই হার অনেক বেশি। তাই ইচ্ছা থাকলেও অনেকে উবারে গাড়ি দিচ্ছেন না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি রিকনডিশন্ড প্রাইভেট কারের দাম সব মিলিয়ে ২০ লাখ টাকার মতো পড়ে। উবারে সারা মাস চালালে কমিশন দিয়ে থাকে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে ড্রাইভারের বেতন দিলে গাড়ির মালিকের ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা বাঁচে। ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে মাসে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় অনেক কম বলে মনে করেন গাড়ির মালিকরা। সে কারণে উবারে গাড়ি দেওয়ার বিষয়ে প্রথমে অনেক আগ্রহ থাকলেও এখন সেই আগ্রহে অনেকেরই ভাটা পড়েছে।

চালু হওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় গত ২৩ জানুয়ারি থেকে উবারের ভাড়া বেড়েছে। প্রথমে উবারে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ছিল ১৮ টাকা। বর্তমানে তা ২১ টাকা। শুরুতে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়ার বাইরে প্রতি মিনিটের জন্য চার্জ দিতে হতো দুই টাকা, এখন দিতে হয় তিন টাকা।

উবারের গাড়িচালক সোহেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উবার অ্যাপের মাধ্যমে আমাদের যাত্রী ধরে দেওয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। গ্রাহকের কাছ থেকে যে টাকাটা আমরা ভাড়া হিসেবে নিই তার ২৫ শতাংশ তারা নিয়ে নেয়। যেকোনো বিবেচনায় এই হার অনেক বেশি। কমিশন ১০ শতাংশ হতে পারে। তাহলে আরো মানুষ তাদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি উবারে দিতে আগ্রহী হবেন। ’

উবারে একটি গাড়ি দিয়েছেন রাজধানীর পান্থপথের বাসিন্দা তৌফিক রহমান। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম মাস শেষে ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় হবে। কিন্তু ড্রাইভারের বেতন ও জ্বালানি খরচ বাদ দেওয়ার পর কোনো মাসেই ১৫ হাজার টাকার বেশি থাকে না। গড়ে ১২ হাজার টাকার মতো পাওয়া যায়। উবার কমিশন হিসেবে যাত্রী ভাড়ার ২৫ শতাংশ নেয়। এত টাকা নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা যদি কমিশন আরো কমায় তাহলে উবারে অনেকে গাড়ি দেবে। ’

জানা গেছে, রাজধানীতে শুধু প্রাইভেট কার বা ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে আড়াই লাখের কিছু বেশি। এসব গাড়ির বেশির ভাগই দিনে ও রাতে খুব কম সময় ব্যবহার করেন বলে বেশ কিছু গাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। এসব গাড়ি উবারে ব্যবহার করা হলে রাজধানীর পরিবহন সংকট অনেকটা কেটে যাবে। সে ক্ষেত্রে উবারের কমিশন কমাতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকদের মত।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চেয়ে ই-মেইল পাঠানো হয়েছিল উবার কর্তৃপক্ষের কাছে। জবাবে তাদের জনসংযোগ দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘বিশ্বের অন্যান্য শহরে যে কমিশনে উবার সেবা দিয়ে থাকে, ঢাকাতেও তা-ই নেওয়া হচ্ছে। এটি অ্যাপভিত্তিক সেবা দেখে অনেকে মনে করতে পারেন এর পেছনে বিনিয়োগ সামান্য। কিন্তু এটি পরিচালনায় অনেক বিনিয়োগ রয়েছে আমাদের। ফলে যাত্রী ও চালকের মধ্যে সহজে যোগাযোগ স্থাপিত হয়। এতে চালক ও যাত্রী উভয়ে উপকৃত হচ্ছেন। ’


মন্তব্য