kalerkantho


স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে আটকালেন শিক্ষক

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৮ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০



নবম শ্রেণিতে পড়া ছাত্রীর বাড়িতে চলছিল বিয়ের আয়োজন। সংবাদ পেয়ে গতকাল সোমবার দুপুরেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের ডেকে বন্ধ করেন এ বাল্যবিয়ে।

ঘটনাটি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের ভাটি চরনওপাড়া গ্রামে। রাতেই এ বাল্যবিয়ে সম্পন্ন করা হতো বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, উচাখিলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছিলেন অভিভাবকরা। পাত্র বিজিবিতে কর্মরত। দুই দিন আগে বরপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কনে দেখে সম্মতি দিয়েছে। সোমবার রাতে কনেপক্ষ যাওয়ার কথা পাত্রের বাড়িতে। আর সেখানেই বিয়ে পড়িয়ে রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। পাত্রীর স্কুলে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা চলায় দিনে আয়োজন করা হয়নি, সঙ্গে ছিল গোপনীয়তার বিষয়। এ অবস্থায় অন্য ছাত্রীদের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক এম এ হালিম জানতে পারেন ঘটনা।

তিনি প্রথমে ছাত্রীকে স্কুলে ডেকে ঘটনা শোনেন। তারপর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় বর ও কনের অভিভাবকদের তলব করেন। আলাপ-আলোচনার একপর্যায়ে বাল্যবিয়ের এ আয়োজন বন্ধ হয়।

প্রধান শিক্ষক এম এ হালিম বলেন, দুপুরে স্কুলে আসার পর ছাত্রীর মুখে ঘটনা শুনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিয়ে নয়, ছাত্রীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও লেখাপড়া অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অভিভাবকরা।

উচাখিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দুই পরিবারকে ডেকে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করতে বলেছি। বাল্যবিয়ে হবে না বলে তারা নিশ্চিত করেছে। এর পরও কিছু হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মিতু মরিয়ম বলেন, বাল্যবিয়ের খবর জেনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ঘটনাস্থলে যেতে বলেছিলাম। শিক্ষকসহ অন্যরা ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হয়নি।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলাটি ২০১৫ সালে ‘বাল্যবিয়ে মুক্ত’ ঘোষণা করা হয়। এরপর প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।


মন্তব্য