kalerkantho


খুলনার পাটপণ্য পরীক্ষাগার ভবন

নানা সংকটে হিমশিম অবস্থা

কৌশিক দে, খুলনা   

১৮ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০



নানা সংকটে হিমশিম অবস্থা

মূল সড়ক ও ফুটপাত পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই কাদা-পানির মাখামাখি। পা ফেললে আর রক্ষা নেই, পিছলে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা।

এর পরও ছোট ছোট ইটে পা ফেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেখানে যান নিয়মিত অফিস করতে। অফিসে ঢুকে আরেক বিড়ম্বনা। বৃষ্টি হলেই পানি চুইয়ে পড়ে। আর ফাটল বড় হয়ে যেকোনো সময় তা ভেঙে পড়তে পারে। ফলে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতি। এ দৃশ্য খুলনা তথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র পাটপণ্য পরীক্ষাগার ভবনটির।

দীর্ঘদিনে সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীন এ ভবন সংস্কার না হওয়ায় ভেতর-বাইরের পলেস্তারা খসে পড়ে জরাজীর্ণ রূপ নিয়েছে। ফলে যেকোনো সময় এটি ভেঙে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

পাট পরীক্ষাগার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৫ সালে খুলনা নগরীর বয়রা এলাকায় ৩০ শতক জমির ওপর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র পাটপণ্য পরীক্ষাগার ভবনটি নির্মাণ করা হয়।

সেই থেকে এখানে পাটজাতীয় পণ্যের সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যক্রম চলছে। মূলত এ ভবনে সব ধরনের পাটপণ্যের ভৌত ও রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষাগার থেকে সার্টিফায়েড হলেই তা দেশে-বিদেশে রপ্তানির অনুমোদন পায়। সরকারের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিস ভবনের পরীক্ষাগারে ঢুকেই দেখা যায়, ঘুটঘুটে অন্ধকার আর ভুতুড়ে পরিবেশ। পাটের চট, বস্তা, সিবিসি এবং বিভিন্ন ধরনের পাটপণ্যের তৈরি দ্রব্য ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য ইংল্যান্ড থেকে আনা যে যন্ত্রপাতিগুলো রয়েছে, তাও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে দেয়াল ফেটে পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ল্যাবে থাকা কোটি কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি। ভেতরের পরিবেশ স্যাঁতসেঁতে, এসিগুলো বর্ষার পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। বিদ্যুতের তার ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। বাউন্ডারি ওয়ালের অবস্থা এতটা করুণ যে সব সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। ভবনটির চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নোংরা আবর্জনার স্তূপ।

খুলনার পাটপণ্য পরীক্ষাগার ভবনটিতে রয়েছে পাট অধিদপ্তরের মুখ্য পরিদর্শকের কার্যালয় ও সহকারী পরিচালকের কার্যালয়। এত বড় আঞ্চলিক কার্যালয়ে জনবলসংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। পাট শাখায় অনুমোদিত জনবল ২৩ জন এবং ল্যাব ও পণ্য শাখায় ১৯ জনসহ মোট ৪২ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও সেখানে কর্মরত মাত্র ১৪ জন। পর্যাপ্ত জনবল কাঠামো না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন। এখান থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবসরে গেলে সেই শূন্য পদগুলো আর পূরণ হয় না। কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নিয়োগপ্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশে মোট চারটি পাটপণ্য পরীক্ষাগার রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় একটি, নারায়ণগঞ্জে দুটি ও খুলনায় একটি পাটপণ্য পরীক্ষাগার রয়েছে, যার অবকাঠামোগুলো একই ধরনের।

সূত্র মতে, খুলনা কার্যালয়ের সংস্কার ও অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ২০০৭ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৪৫ লাখ ৮০ হাজার টাকার একটি প্রাক্কলন ব্যয় মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ২০১৪ সালে ৯০ লাখ টাকার আরেকটি প্রাক্কলন ব্যয় মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে মন্ত্রণালয়ের একটি টিম এবং ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ভবনটি পরিদর্শন করেন। ওই সময় ডিজি দেশের চারটি জায়গায় স্থাপিত পুরনো পাটপণ্য পরীক্ষাগার ভবন ভেঙে নতুন বহুতল ভবন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন। তবে তাঁর সেই প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

অফিস সহকারী আবু তৈয়ব বলেন, ‘এখানে তো আতঙ্কের মধ্যে আছি। ভবন ভেঙে মরলে যদি এটি ঠিক হয়। আমাদের তো অন্য কোথাও যাওয়ার পথ নেই। তাই এখানেই আছি। ’


মন্তব্য