kalerkantho


টাঙ্গাইলে অটোরিকশার যন্ত্রণা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি   

১৮ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০



টাঙ্গাইলে অটোরিকশার যন্ত্রণা

টাঙ্গাইল শহরে অটোরিকশার এমন বিশৃঙ্খল চলাচলের কারণে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

টাঙ্গাইল শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা এতই বেড়ে গেছে যে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তা ছাড়া অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল ও অদক্ষ চালকের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

তার পরও শহরের বিভিন্ন দোকানে অটোরিকশার  তৈরি ও বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।

টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ঘুরে, অটোচালক, যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে যানজটের চারটি কারণ চিহ্নিত করা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে অটোর আধিক্য বেড়ে যাওয়া, অদক্ষ চালকের এলোমেলো চলাচল, যেখানে-সেখানে ইউ টার্ন এবং রাস্তার পাশে পার্কিং।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শহরের নতুন বাস টার্মিনাল থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ দিকে ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। এটি কখনো কখনো হাসপাতাল গেট হয়ে শামসুল হক তোরণ মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া কুমুদিনী কলেজ মোড়, সুপারি বাগান মোড়, পুরনো বাসস্ট্যান্ড, কালীবাড়ী মোড়, বটতলা, পৌর উদ্যানের সামনে, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় মাঝেমধ্যেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। নতুন বাস টার্মিনালের দক্ষিণ পাশ থেকে হাসপাতাল গেট পর্যন্ত রাস্তার পাশে প্রায়ই বাসাইল-সখীপুর সড়কসহ বিভিন্ন সড়কের বাস পার্কিং করে রাখা হয়। যানজটে আটকা পড়লে অধিকাংশ সময় সেখানে যাত্রী নামিয়ে অটো ঘুরিয়ে অন্যদিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় যানজট তীব্র হয়।

পুরনো বাসস্ট্যান্ড, বটতলা ও নিরালা মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও অন্য জায়গায় তাদের দেখা যায় না। ফলে যানজট নিরসন হতেও বেশ সময় লাগে। আর তাতে ভোগান্তির শিকার হতে হয় যাত্রীদের।

স্থানীয় গৃহবধূ আয়শা সিদ্দিকা বলেন, ক্লিনিকে ডাক্তার দেখিয়ে নিরালা মোড় থেকে অটোতে নতুন বাসটার্মিনাল যেতে পুরনো বাসস্ট্যান্ড, সুপারি বাগান মোড় ও কুমুদিনী কলেজ মোড়ে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকা থাকতে হয়েছে। নতুন বাস টার্মিনালের আগে জেলা শিল্পকলা একাডেমির কাছে এলে অটোর জটে আটকা পড়তে হয়। পরে বাধ্য হয়ে অসুস্থ অবস্থায় সেখানে নেমে মিল্ক ভিটা মোড় পর্যন্ত হেঁটে আসতে হয়েছে।

সৃষ্টি শিক্ষা পরিবারের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার জানায়, নতুন বাস টার্মিনাল, কুমুদিনী কলেজের সামনের রাস্তায় যানজটের কারণে মাঝেমধ্যে ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়।

অদক্ষ চালকদের কারণে যে যানজট বেশি হচ্ছে সেটি অনেক অটোচালক স্বীকারও করেছেন। সাজ্জাদ হোসেন আগে বাস চালাতেন। বিভিন্ন সমস্যার কারণে তিনি সেটি বাদ দিয়ে এখন অটো চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, অনেক চালক ট্রাফিক সিগন্যাল না বুঝেই অটো নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। তারা যেখানে-সেখানে অটো থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায়। আবার যেখানে-সেখানে ইউ টার্ন নেয়। তখন সামনে-পেছনে অন্য অটো আটকা পড়ে যানজট বাঁধে। আর শহরে এত অটো চলছে যে কয়দিন পর রাস্তাই বন্ধ হয়ে যাবে।

আরেক অটোচালক ফজল মিয়া বলেন, ‘আমাদের অটোচালকদের ধৈর্য কম। একজন যাত্রী পাইলেই ব্রেক করে বসে। চালকদের জন্য শহরে যানজট বেশি হয়। আবার বড় গাড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়ার সময় অটোরিকশা থামিয়ে রাখা হয়। তখন যানজট হয়। ’

টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) রফিকুল ইসলাম সরকার জানান, শহরে রাস্তার তুলনায় অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল করছে। পৌরসভা দুই হাজার ২৪৭টি অটোর অনুমোদন দিলেও প্রায় সাত হাজার অটো চলাচল করছে। আবার অনুমোদনহীন মেট্রো রিকশা চলাচল করছে প্রায় তিন হাজার। আবার শহরের বাইরে থেকেও অনেক অটো শহরে ঢুকছে। এ অবস্থায় শহরকে যানজটমুক্ত করতে দুই শিফটে নির্দিষ্টসংখ্যক অটো চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।


মন্তব্য