kalerkantho


‘রোডম্যাপ’ নয় ‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার’ প্রতিষ্ঠা আগে চায় বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ মে, ২০১৭ ০০:০০



নির্বাচন কমিশনের ‘রোডম্যাপ’ নয়, ‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টির আগে ফয়সালা চায় বিএনপি। দলটির পক্ষে এ কথা জানিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন একটি রোডম্যাপ দিয়েছে। ভালো কথা। আমরা সর্বশেষ কথা বলে দিতে চাই, আপনারা যত রোডম্যাপ দেন, আলোচনা করতে চান, আমরা আলোচনা করতে রাজি আছি। কিন্তু নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে হলে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন হবে। ওই নিরপেক্ষ সরকারের ব্যবস্থা আগে করতে হবে। শেখ হাসিনা বা এ সরকারের অধীনে ২০১৪ সালে নির্বাচন হয় নাই, এবারও সেটা হবে না—এটা আমাদের স্পষ্ট কথা।’

গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে স্বাধীনতা ফোরামের উদ্যোগে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাগপার শফিউল আলম প্রধানের স্মরণে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার রোডম্যাপ ঘোষণার পর বিএনপির তরফ থেকে এই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এলো।

রমজানের পরই বিএনপি চেয়ারপারসন ‘নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের’ রূপরেখা জাতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করবেন জানিয়ে ড. মোশাররফ বলেন, “আপনি (সিইসি) যতই আইন সংস্কার করেন না কেন, ভালো ভালো কথা বলেন, প্রকৃতপক্ষে নির্বাচন পরিচালিত হয় সরকারের কর্মকর্তাদের দিয়ে। জেলায় ডিসি-এসপি, উপজেলায় ইউএনও-থানার ওসি দিয়ে। সরকার থাকবে আওয়ামী লীগের আর এই কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ হবে—এটা কোনো দিন সম্ভব নয়। এটা আমাদের কথা নয়, ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনাও (প্রধানমন্ত্রী) এ কথা বলেছেন, কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ ‘গায়ের জোরে’ সংবিধান সংশোধন করেছে” বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য।

নির্বাচনী আইনের সংস্কারের দাবির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১/১১-র পরে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার জন্য বিএনপিকে বেকাদায় ফেলতে প্রায় ৭১-৭২টা নির্বাচনী এলাকা ইচ্ছামতো কাঁটছাট করে জনপ্রিয় নেতাদের পরাজিত করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। সেসব এলাকা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে হবে। আপনারা বলছেন, ইভিএমের কথা। আমাদের দলের পক্ষ থেকে বলে দেওয়া হয়েছে, ইভিএম আমরা বিশ্বাস করি না, এটা আমরা মানি না। পৃথিবীর অনেক দেশে ইভিএম ছিল, তা বাতিল করে দিয়েছে।’

ভারতের হাইকমিশনারের বক্তব্য প্রসঙ্গে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আজকে পত্র-পত্রিকায় এসেছে, ভারতের হাইকমিশনার (হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা) বলেছেন, তাঁরা আমাদের নির্বাচনে সহযোগিতা করবেন। আমাদের প্রশ্ন কী ধরনের সাহায্য। তাঁরা আমাদের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র, ভারতের সহযোগিতা আমরা চাই। কিন্তু ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিতে যেভাবে ভারতের সরকার, সরকারের পররাষ্ট্রসচিব একটা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য সারা বিশ্বে ক্যাম্পিং করেছেন এবং আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার জন্য সহযোগিতা করেছেন। সেই ধরনের সহযোগিতা-সাহায্য আমরা চাই না। আমরা চাই, এ দেশের জনগণ তাদের ইচ্ছামতো ভোট দেবে, যাকে ইচ্ছা তাকে দেবে এবং সেই পরিবেশ সৃষ্টির জন্য যদি আপনারা সহযোগিতা করতে চান, আমরা স্বাগত জানাই।



মন্তব্য