kalerkantho


হোটেলে আটকে ধর্ষণ

নাঈমও স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হয়েছে

আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট তৈরি হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ মে, ২০১৭ ০০:০০



বনানীতে হোটেলে আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট তৈরি করতে শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার। এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি সাফাতসহ সাদমান ও বিল্লাল ইতিমধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অন্যতম আসামি নাঈম আশরাফও জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা।

তদন্তের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মামলার তদারক কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ফরিদা ইয়াসমিন মিলি বলেন, দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় তদন্তে ইতিমধ্যে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। ঘটনার দায় স্বীকার করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে মামলার আসামিরা। নাঈমের সাত দিনের রিমান্ড শেষ হচ্ছে কাল।

এদিকে ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এখনো নানা হয়রানির মধ্যে আছেন। অনেকটা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন জানিয়ে গতকাল এক শিক্ষার্থী বলেন, মামলা করার পর থেকে তাঁরা নানা রকম হয়রানির মধ্যে আছেন। ইতিমধ্যে তাঁদের বাসায় ঢুকেও হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। এখন তাঁদের ফোনে নানাভাবে বিরক্ত করা হচ্ছে। তবে তাঁরা মনে করেন, আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। কারণ এরা তাঁদের জীবনটা ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামি ছাড়াও তদন্তের প্রয়োজনে এখন পর্যন্ত আন্তত ৪০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে জানিয়ে মামলার এক তদারক কর্মকর্তা বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামিদের সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের প্রয়োজনে রেইনট্রি হোটেল কর্তৃপক্ষসহ সেদিন হোটেলটিতে যারা উপস্থিত ছিল তাদের প্রত্যেককে নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা ঘটনা সম্পর্কে যে যা জানত তার বিবরণ দিয়েছে। এ ছাড়া মামলা নিতে গড়িমসি ও ধর্ষণের শিকার তরুণীদের হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বনানী থানার ওসিসহ গুলশান বিভাগের পুলিশের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ডিএমপির এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনায় পরোক্ষভাবে ফেঁসে গেছেন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ। সন্তানের ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে ফেঁসে গেছেন তিনি। এ ঘটনার জের ধরে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান (স্বর্ণের দোকান) ইতিমধ্যে সিলগালা করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার। ফেঁসে গেছে হোটেল রেইনট্রি কর্তৃপক্ষও।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে ডিএমপি কমিশনার সাহেব বিস্তারিত জানাবেন। তদন্তাধীন বিষয়ে এখন আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।’

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই শিক্ষার্থীর ফরেনসিক প্রতিবেদন ও ভিডিও ফুটেজের তথ্য ছাড়া তদন্তে এখন পর্যন্ত যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। রেইনট্রি হোটেলের মালিক ও তাঁর ছেলেসহ হোটেলটির গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদেরও এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে হোটেল কর্তৃপক্ষ রাতের ভিডিও ফুটেজ তদন্তসংশ্লিষ্টদের কাছে জমা দিয়েছে। হোটেলটি ইতিমধ্যে পরিদর্শন করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি টিম।



মন্তব্য