kalerkantho


প্রজ্ঞাপন জারি হচ্ছে

রমজানে গ্রামেও ভেজালবিরোধী অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ মে, ২০১৭ ০০:০০



আসন্ন রমজান মাসকে কেন্দ্র করে খাদ্যে ভেজাল ঠেকাতে দেশজুড়ে ৬০০ স্যানিটারি ইন্সপেক্টরকে মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে দেশের প্রতিটি বিভাগের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে ভেজালবিরোধী এ কার্যক্রম চালানো হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল বুধবার এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন চূড়ান্ত করেছে। আজ-কালের মধ্যেই এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এরই মধ্যে এ ব্যাপারে স্যানিটারি ইন্সপেক্টরদের নির্দেশনা পাঠিয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেকের নির্দেশে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

চূড়ান্ত করা প্রজ্ঞাপনে রমজান মাসে খাবার দোকান পরিদর্শন করা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরদের ভেজালবিরোধী অভিযান চালাতে দোষীদের জেল-জরিমানার মামলা দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যে ভেজালের প্রমাণ পেলে দোষী ব্যবসায়ীর পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার মামলা করতে পারবেন স্যানিটারি ইন্সপেক্টররা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রতিবছর রমজান শুরু হওয়ার পর মানুষের মধ্যে ভেজাল খাবার নিয়ে ভীতি দেখা যায়। তাই এবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভেজালমুক্ত খাবারের নিশ্চয়তা দিতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

চূড়ান্ত করা প্রজ্ঞাপনের তথ্য জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, স্যানিটারি ইন্সপেক্টররা খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ট্রেড লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন, ব্যবসায়ীদের জিএমপি ও জিএইচপি প্রশিক্ষণ, ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরিসহ প্রতিদিন কমপক্ষে আটটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন। তাঁরা রমজান মাসে কাঁচাবাজার, ফল ও মাংসের দোকান এবং রেস্তোরাঁ পরিদর্শন করে সন্দেহযুক্ত খাদ্যের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠাবেন। আর ভেজালের প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্দিষ্ট মেয়াদের শাস্তিযোগ্য মামলা দায়ের করার ক্ষমতা পাবেন তাঁরা।

এর আগে গত মঙ্গলবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে ‘সুস্থ জীবনের নিরাপদ খাদ্য’ বিষয়ক সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী স্যানিটারি ইন্সপেক্টরদের রমজান মাসে প্রতিদিন ভেজালবিরোধী অভিযান চালানোর নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, শুধু রমজান মাসে নয়, জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে স্যানিটারি ইন্সপেক্টরদের এ অভিযান সারা বছর অব্যাহত রাখতে হবে।

প্রসঙ্গত, প্রতিবারই রমজান মাসে ভেজাল খাবারের প্রবণতা বেড়ে যায়। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নানা কৌশলে খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে বাড়তি মুনাফা আদায়ে তত্পর হয়ে ওঠে।


মন্তব্য