kalerkantho


বিয়ের পিঁড়িতে নয় সায়মা বসেছে ক্লাসে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

২৫ মে, ২০১৭ ০০:০০



দশম শ্রেণির ছাত্রী খাদিজা আক্তার সায়মার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ে। মঙ্গলবার ছিল গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান, বুধবার বিয়ে। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে ভেস্তে গেছে বাল্যবিয়ের এ আয়োজন। গতকাল বুধবার সায়মা যথারীতি স্কুল করেছে। তার পরিবার আশ্বস্ত করেছে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগে আর বিয়ের আয়োজন করা হবে না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, স্কুল ছাত্রী সায়মার বাল্যবিয়ে রোধে মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপালী মণ্ডল। তিনিই পাত্রপাত্রীর অভিভাবকদের তলব করে বিয়ে বন্ধের পাশাপাশি শর্ত দেন সায়মার লেখাপড়া অব্যাহত রাখার।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা ইউনিয়নের টঙ্গীরপাড় গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে খাদিজা আক্তার সায়মা। সে  স্থানীয় নজরুল একাডেমির দশম শ্রেণির ছাত্রী। অভিভাবকরা তার বিয়ে ঠিক করেন সৌদিপ্রবাসী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। সাইফুলের বাড়ি পাশের পশ্চিম জোড়কানন ইউনিয়নের সুয়ারখিল গ্রামে। তাদের এ বিয়ের কার্ড ছেপে বিলি করা হয়েছিল। আত্মীয়স্বজনরা জড়ো হচ্ছিল উৎসব আয়োজনে। এরই মাঝে বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রূপালী মণ্ডলের। সংবাদ নিয়ে নিশ্চিত হন কনের বয়স ১৫ বছর তিন মাস তিন দিন। এরপর তিনি তলব করেন বর ও কনের পরিবারকে। যেদিন কনের গায়ের হলুদ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা সেদিন স্বজনরা হাজির হন নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে। গত মঙ্গলবার উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে রূপালী মণ্ডল বুঝিয়ে বলেন বাল্যবিয়ের কুফল ও আইনি বাধার কথা। একপর্যায়ে বর ও কনের বাবা মুচলেকা দিয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা বন্ধে সম্মত হন। বুধবার বিয়ের বদলে সায়মাকে স্কুলে দেখতে চান নির্বাহী কর্মকর্তা। সে অনুযায়ী সায়মা বুধবার স্কুলে গেছে এবং ক্লাস করেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপালী মণ্ডল বলেন, ‘নজরুল একাডেমিতে গিয়ে দেখেছি সায়মা ক্লাসে উপস্থিত ছিল। শ্বশুর বাড়িতে না গিয়ে স্কুলে আসতে পেরে সে বেশ খুশি। সে মেধাবী, ভবিষ্যতে ভালো ফল করতে চায়। তার প্রতি বিশেষ নজর রাখতে শিক্ষকদের নির্দেশনা দিয়েছি।’



মন্তব্য