kalerkantho


পুলিশ কর্তাদের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক হচ্ছে

মধ্যম পর্যায়ে এই প্রশিক্ষণে ফেল করলে আর পদোন্নতি হবে না

আশরাফুল হক রাজীব   

২৫ মে, ২০১৭ ০০:০০



প্রশিক্ষণে ফেল করলে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন না—এমন বিধান রেখে মধ্যম সারির পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক হচ্ছে। পুলিশ বিভাগ এরই ম্যধ্যে ওই প্রশিক্ষণের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। কর্মপরিকল্পনাটি অনুমোদন পেলে মধ্যম পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে। পরিকল্পনায় এএসপি থেকে এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য দেশে ও বিদেশে মিলিয়ে ছয় থেকে আট সপ্তাহের প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রশিক্ষণ কোর্সে ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় পাস নম্বর ধরা হচ্ছে ৬০। জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জনপ্রশাসনে উপসচিব ও যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদোন্নতির জন্য প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া গণকর্মচারীদের জন্য বছরে ৬০ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সেনাবাহিনীতে মেজর, নৌবাহিনীতে লে. কমান্ডার ও বিমানবাহিনীতে স্কোয়াড্রন লিডার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের ৪৫ সপ্তাহের প্রশিক্ষণ নিতে হয়, যা পরবর্তী পদোন্নতির এক অত্যাবশকীয় শর্ত। প্রতিবেশী দেশ ভারতে ২০০৮ সাল থেকে মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চালু থাকলেও বাংলাদেশে পুলিশের মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক কোনো প্রশিক্ষণব্যবস্থা নেই।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সারদা পুলিশ একাডেমি থেকে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ নিয়ে বাহিনীতে যোগদানের পর আর কোনো পর্যায়ে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের সুযোগ নেই। অথচ পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন অপরাধ সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরনও পাল্টাচ্ছে। গতানুগতিক পুলিশি ব্যবস্থায় এসব অপরাধ দমনে পুরোপুরি সফল হওয়া সম্ভব নয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পুলিশের অবশ্যই মধ্যম পর্যায়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া দরকার।

সূত্র মতে, পুলিশ ক্যাডারের এএসপি ও সিনিয়র এএসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য আট সপ্তাহের পুলিশ লিডারশিপ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সার্টিফিকেট কোর্স, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারদের জন্য আট সপ্তাহের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল ম্যানেজমেন্ট সার্টিফিকেট কোর্স এবং পুলিশ সুপারদের জন্য ছয় সপ্তাহের পুলিশ এক্সিকিউটিভ ম্যানেজমেন্ট সার্টিফিকেট কোর্স চালু হচ্ছে। এএসপি ও সিনিয়র এএসপিরা সাত সপ্তাহ দেশে ও এক সপ্তাহ বিদেশে এ প্রশিক্ষণ নেবেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপাররা ছয় সপ্তাহ দেশে ও দুই সপ্তাহ দেশের বাইরে এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। আর পুলিশ সুপাররা প্রশিক্ষণ নেবেন চার সপ্তাহ দেশে ও দুই সপ্তাহ বিদেশে। এএসপিদের জন্য প্রতিবছর চারটি কোর্সের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতি ব্যাচে ৫০ জন কর্মকর্তা অংশ নেবেন। সে ক্ষেত্রে বছরে ২০০ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ পাবেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও এডিসি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্যও চারটি ব্যাচ করা হবে। এ পর্যায়ে প্রতি ব্যাচে ২৫ জন কর্মকর্তা অংশ নিতে পারবেন। তবে এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য তিনটি প্রশিক্ষণ কোর্সের ব্যবস্থা করা হবে এবং প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ পাবেন।

জানা যায়, প্রশিক্ষণে ৯৪ থেকে ১০০ নম্বর পেলে এ প্লাস গ্রেড ধরা হবে। ৮৬ থেকে ৯৩ নম্বর ধরা হবে এ গ্রেড। বি প্লাস গ্রেড নম্বর ৮২ থেকে ৮৫। বি গ্রেড নম্বর ৭৪ থেকে ৮১। সি প্লাস গ্রেড নম্বর ৭০ থেকে ৭৩ এবং সি গ্রেড নম্বর ৬২ থেকে ৬৯। সি মাইনাস ৬০ থেকে ৬১ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া যাঁরা ডি গ্রেড পাবেন তাঁরা অকৃতকার্য হিসেবে গণ্য হবেন। চূড়ান্ত লিখিত পরীক্ষার জন্য ৫০, ব্যক্তিগত মূল্যায়ন ২০, ক্লাস টেস্ট ২০ ও ক্লাসে উপস্থিতির জন্য ১০ নম্বর দেওয়া হবে। ১০০ নম্বরের মধ্যে ৬০ পাস নম্বর হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রথমবার কেউ ফেল করলে পরবর্তী কোর্সে আগ্রাধিকার ভিত্তিতে অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু দুটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ফেল করলে তিনি আর পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পুলিশের এই প্রশিক্ষণের জন্য বছরে ব্যয় হবে আট কোটি টাকা। এর বাইরে পুলিশ স্টাফ কলেজে প্রশিক্ষণের জন্য তিনটি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, লাইব্রেরি সংস্কার, ডরমিটরি রুম বৃদ্ধি, সাউন্ড সিস্টেম ও ল্যাব সুবিধা বাড়াতে আরো তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দরকার।


মন্তব্য